দেশজুড়ে ওষুধ পরীক্ষায় নয়া আতঙ্ক
ভারতের ওষুধ বাজারে ফের বড়সড় কেলেঙ্কারি। কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ (CDSCO) প্রকাশিত সর্বশেষ রিপোর্টে ধরা পড়ল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— ১৫১টি ওষুধ গুণমান পরীক্ষায় ফেল করেছে।
কলকাতা ল্যাবে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্যাব ও রাজ্য ড্রাগ ল্যাব থেকে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য। শুধু কলকাতার ল্যাবেই ফেল করেছে ২৬টি ওষুধ, আর রাজ্য ড্রাগ ল্যাবে ফেল করেছে আরও ৫টি নমুনা। পরীক্ষায় ধরা পড়ছে—যেসব ওষুধ সাধারণ মানুষ ভরসা করে কিনছেন, সেগুলিই অনেক ক্ষেত্রে ভুয়ো!
ক্যানসারের ওষুধও জাল!
তালিকার প্রথমেই রয়েছে মারাত্মক খবর—Venetoclax 100 mg, যা বোন ম্যারো ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। চণ্ডীগড়ের ল্যাব পরীক্ষা করে জানিয়েছে, বাজারে থাকা একাধিক ব্যাচ জাল। অর্থাৎ গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাতে জীবনদায়ী ভুয়ো ওষুধ তুলে দেওয়া হচ্ছিল।
অ্যানিমিয়ার ইঞ্জেকশনও ভুয়ো
এরপর চমক—Nandrolone decanoate injection, যা অ্যানিমিয়ার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত, সেটিও পরীক্ষায় ধরা পড়েছে জাল বলে। এই ইঞ্জেকশন বহু রোগীর নিত্যপ্রয়োজনীয়। কিন্তু সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাব, কলকাতা নিশ্চিত করেছে—এই ব্যাচ আসল নয়।
গ্যাসের ট্যাবলেট নিয়ে ধোঁকাবাজি
অম্বল বা পেটের গ্যাসের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত Pantoprazole gastroresistant tablet ভারতীয় বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই সবচেয়ে বেশি বিক্রিত ওষুধ হিসেবে পরিচিত। তবে এবার সেই জনপ্রিয় ট্যাবলেট নিয়েই উদ্বেগ বাড়ল—কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাব জানিয়েছে, বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটির জাল সংস্করণ। অর্থাৎ সাধারণ রোগীরা যেটি ভরসা করে খাচ্ছেন, তার মধ্যেই ঢুকে পড়েছে নকল ওষুধের ছায়া।
ব্লাড প্রেসারের ওষুধও নকল
চমকপ্রদভাবে সামনে এসেছে এক ভয়ঙ্কর তথ্য। হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত বহুল প্রচলিত ওষুধ Telmisartan 40 mg ও Hydrochlorothiazide 12.5 mg ট্যাবলেটকেও জাল বলে চিহ্নিত করেছে পরীক্ষাগার। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন যে ওষুধ খেয়ে থাকেন, তারই একটি ব্যাচ সম্পর্কে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—এটি মূল কোম্পানির তৈরি নয়, বরং ভুয়ো।
রোগীর হাতে মৃত্যুর ঝুঁকি
চিকিৎসক মহলের বক্তব্য, ক্যানসার, ব্লাড প্রেসার কিংবা সংক্রমণের মতো গুরুতর অসুখে এই ধরনের ভুয়ো ওষুধ ব্যবহার করলে রোগীর প্রাণসংশয় হতে পারে। অসৎ ব্যবসায়ীরা লাভের আশায় রোগীর জীবনকে বাজি ধরছে।
উৎপাদক সংস্থার অস্বীকৃতি
এই ৮টি ওষুধের তালিকা প্রকাশ করে CDSCO জানিয়েছে—অরিজিনাল সংস্থাগুলি নিজেরাই বলেছে, তারা এই ব্যাচ তৈরি করেনি। অর্থাৎ ভুয়ো ওষুধ তৈরির পিছনে রয়েছে অসৎ চক্র, যারা নামী কোম্পানির নাম ব্যবহার করে বাজারে নকল পণ্য ছাড়ছে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশে কড়া নজরদারি
ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যগুলিকে—এমন জাল ওষুধ যদি বাজারে মজুত থাকে তবে তা দ্রুত বাজেয়াপ্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে মেডিক্যাল শপ ও ডিস্ট্রিবিউটরদের।
সাধারণ মানুষকে সতর্কবার্তা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন—যে কোনও ওষুধ কেনার আগে হলোগ্রাম, ব্যাচ নম্বর, ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট মিলিয়ে নিতে হবে। সন্দেহ হলে সরকারি হেল্পলাইনে জানাতে হবে। কারণ একটিমাত্র জাল ট্যাবলেটই রোগীর জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ভরসার বাজারে আতঙ্ক
ভারত বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ উৎপাদক দেশ। অথচ এখানেই বারবার ধরা পড়ছে জাল ওষুধ কাণ্ড। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর না হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বড় বিপদের মুখে পড়বে।