বিহারের ৩ লক্ষ সন্দেহভাজন ভোটারকে নোটিস, নাগরিকত্বের প্রমাণ না দিলে তালিকা থেকে বাদ

বিহারের ৩ লক্ষ সন্দেহভাজন ভোটারকে নোটিস, নাগরিকত্বের প্রমাণ না দিলে তালিকা থেকে বাদ

বিহারের ৩ লক্ষ সন্দেহভাজন ভোটারকে নির্বাচন কমিশন (ECI) নোটিস পাঠিয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকার আগে তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দিতে হবে, অন্যথায় তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

বিহার ভোটার তালিকা: বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (Special Intensive Revision - SIR) অধীনে বিহারে ভোটার তালিকার পর্যালোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India - ECI) স্পষ্ট করেছে যে ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। এর আগে যে সকল ভোটারদের নথি অসম্পূর্ণ বা সন্দেহজনক বলে পাওয়া গেছে, তাদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। কমিশনের মতে, যদি এই ভোটাররা সময়মতো তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ না দেন, তবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকার আগে বড় পদক্ষেপ

নির্বাচন কমিশন এই বার ভোটার তালিকার নির্ভুলতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। SIR প্রক্রিয়ার সময় কমিশন প্রায় ৩ লক্ষ এমন ভোটারের নাম পেয়েছে যাদের নথি সন্দেহজনক। এদের মধ্যে অনেক ভোটার বিহারের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বাস করেন, যা নেপাল এবং বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন।

কিষানগঞ্জ, পূর্ণিয়া, পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, আররিয়া, সহরসা, মধুবাণী এবং সুপৌল জেলাগুলিতে সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক ভোটারের নাম পাওয়া গেছে। এদের সকলকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে।

কোন কারণে এই ভোটাররা সন্দেহভাজন?

কমিশন অনুযায়ী, এই ভোটারদের নথিপত্রে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের আধার কার্ড এবং অন্যান্য পরিচয়পত্র সন্দেহজনক বলে প্রমাণিত হয়েছে। এটিও মনে করা হচ্ছে যে এদের মধ্যে অনেকে বাংলাদেশ, নেপাল, মায়ানমার এবং আফগানিস্তান থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং জাল নথি তৈরি করে ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করেছে। এখন কমিশন এদের সমস্ত নথিপত্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে।

এখন পর্যন্ত ৬৫ লক্ষ নাম ইতিমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে

SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন বিহারে ভোটার তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এরা সেইসব ব্যক্তি যারা হয় জীবিত নেই, অথবা স্থায়ীভাবে বিহার ছেড়ে চলে গেছেন, অথবা যাদের নাম দুটি জায়গায় নথিভুক্ত ছিল।

এই সমস্ত নাম বাদ দেওয়ার কাজটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে করা হয়েছে। আদালত কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল যে জাল বা ডুপ্লিকেট ভোটারদের বাদ দেওয়ার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

কিভাবে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে?

যে সকল ভোটারদের নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাদের তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে আধার কার্ড, জন্ম শংসাপত্র, পাসপোর্ট বা অন্যান্য সরকারি পরিচয়পত্র অন্তর্ভুক্ত। যদি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নথি জমা না দেওয়া হয়, তবে তাদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।

নোটিস জারির প্রক্রিয়া

কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, সকল সন্দেহজনক ভোটারদের নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই কাজটি জেলা নির্বাচন আধিকারিক (District Election Officer) এবং एसडीएमের তত্ত্বাবধানে করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় সন্দেহজনক ভোটারদের নামের তালিকা সংশ্লিষ্ট বুথ এবং ব্লক অফিসগুলিতেও লাগানো হয়েছে যাতে মানুষ তাদের তথ্য পরীক্ষা করতে পারে।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে বড় প্রভাব পড়বে

যদি কোনো ভোটার নথি জমা না দেয়, তবে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এই ধরণের লোকেরা পরবর্তী বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে সময়মতো নথি জমা দেওয়া ভোটারের দায়িত্ব।

আধার লিঙ্কিংও জরুরি

সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর এখন বিহারে আধারকেও (Aadhaar) জরুরি নথিপত্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভোটার তালিকায় নাম বজায় রাখার জন্য আধার লিঙ্ক করাও জরুরি।

কখন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে?

নির্বাচন কমিশন অনুযায়ী, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে। এর আগে সকল ভোটারদের নোটিসের জবাব দিতে হবে। যদি কারো নাম বাদ দেওয়া হয়, তবে তার তথ্য সংশ্লিষ্ট বুথ এবং জেলা কার্যালয়ে সর্বজনীনভাবে উপলব্ধ থাকবে।

Leave a comment