সিবিআই হানা অতীন ঘোষের বাড়িতে

সিবিআই হানা অতীন ঘোষের বাড়িতে

উত্তর কলকাতার তৃণমূলের দাপুটে বিধায়ক ও কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের বাড়িতে হানা দিল সিবিআই। শুক্রবার দুপুরে আচমকাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে হাজির হন শ্যামবাজারের বাসভবনে। স্থানীয় এলাকায় মুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

দুপুর গড়াতেই শ্যামবাজারে তল্লাশি অভিযান

প্রায় দুপুর ২.১৫ নাগাদ শ্যামবাজারের বাড়িতে প্রবেশ করেন তিনজন সিবিআই আধিকারিক। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। তাঁরা সরাসরি বিধায়ক অতীন ঘোষের সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রয়োজনীয় নথি ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করেন। আশেপাশে ভিড় জমতে থাকে কৌতূহলী মানুষের।

আরজি কর হাসপাতাল দুর্নীতি মামলার ছায়া

অভিযোগ, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সরঞ্জাম কেনাকাটায় বড়সড় দুর্নীতি হয়েছে। সেই সময় হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন অতীন ঘোষ। স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে তিনি সরাসরি এই কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগের জাল ধরেই এবার তদন্তকারীদের চোখ ঘুরল তাঁর দিকেই।

তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের নামও জড়িত

শুধু অতীন ঘোষই নন, এই মামলায় প্রাক্তন রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা আরেক তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের নামও উঠে এসেছে। ইতিমধ্যেই তাঁর বাড়িতেও হানা দিয়েছে সিবিআই। শনিবার সিঁথির মোড়ের বাড়িতে দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চলে। তদন্তের ধাক্কা এখন ক্রমশ বাড়ছে।

কেন টার্গেটে রোগীকল্যাণ সমিতি?

হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত নেয় রোগীকল্যাণ সমিতিই। তাই ওই সময় কমিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের কার্যকলাপ এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, নথি জালিয়াতি ও অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে কেনাকাটার অভিযোগ উঠেছে। এর পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভিযোগও উড়ছে।

তল্লাশির সময় কী ঘটল?

অভিযানের শুরুতেই সিবিআই আধিকারিকরা বাড়ির ভেতরে গিয়ে অতীন ঘোষের সঙ্গে কথা বলেন। প্রাথমিকভাবে কিছু কাগজপত্র চাওয়া হয়। তদন্তকারীরা বাড়ির নির্দিষ্ট কক্ষ ঘেঁটে নথি খোঁজেন। তবে এই অভিযান জুড়ে গণমাধ্যমের প্রবল ভিড় থাকলেও তদন্তের বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখেন আধিকারিকরা।

এলাকায় চাঞ্চল্য, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

শ্যামবাজার এলাকা মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় মানুষজন রাস্তায় দাঁড়িয়ে গুঞ্জন করতে থাকেন। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা। তৃণমূল নেতারা বলছেন, বিরোধীদের চাপে রাখতে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে বিজেপি সরকার। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, দুর্নীতির কুকীর্তি ফাঁস হওয়াই এই হানার আসল কারণ।

চার্জশিট ইতিমধ্যেই জমা সিবিআইয়ের

এই মামলায় ইতিমধ্যেই চার্জশিট দাখিল করেছে সিবিআই। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। নতুন করে যাঁদের নাম জড়াচ্ছে, তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের জালে এবার একে একে ধরা পড়ছেন তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতারা।

অতীন ঘোষ নীরব, তৃণমূল অস্বস্তিতে

হানার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নীরব থাকেন অতীন ঘোষ। তবে দলীয় মহলে চাপা অস্বস্তি স্পষ্ট। উত্তর কলকাতার পুরনো রাজনৈতিক মুখ হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা কম নয়। ফলে দলের জন্য বড়সড় বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিরোধী শিবিরের তোপ

সিবিআই হানাকে ঘিরে সরব বিজেপি ও বাম দল। তাঁদের দাবি, স্বাস্থ্যক্ষেত্রের দুর্নীতি বাংলার মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। এই দুর্নীতিতে জড়িত প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে। বিরোধীরা আরও বলছে, “চোরের মনে পুলিশ-ভীতি, তাই এত অস্বস্তি।”

ভোটের আগে বড় ধাক্কা?

আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমন তদন্ত তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উত্তর কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দলের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তদন্ত যত এগোবে, ততই চাপ বাড়বে শাসকদলের ওপর।

সিবিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায়

তদন্ত শেষ হওয়ার পর কী পদক্ষেপ নেবে সিবিআই, এখন সেটাই দেখার। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা তুঙ্গে—অতীন ঘোষকে কি শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে? নাকি তদন্তের গতিই বদলে যাবে এই হানার পর? সব চোখ এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার দিকে।

Leave a comment