খুনডুংরির ডাক শাল-শিমুলে মোড়া পাহাড়ি অরণ্যে পুজোর ছুটির চমকপ্রদ সফর

খুনডুংরির ডাক শাল-শিমুলে মোড়া পাহাড়ি অরণ্যে পুজোর ছুটির চমকপ্রদ সফর

শাল-সেগুনে ভরা গভীর জঙ্গল, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, সঙ্গে স্রোতস্বিনী ঝর্নার টান—সব মিলিয়ে সারা বছরই বেলপাহাড়িতে ভিড় জমে। আগে দিঘা ছিল সপ্তাহান্তের পর্যটনের প্রথম পছন্দ, কিন্তু এখন তালিকায় দ্রুত জায়গা করে নিয়েছে বেলপাহাড়ি। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এই অঞ্চল হয়ে উঠছে একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতার ঠিকানা।

পরিচিত জলপ্রপাত আর পাহাড়ের আহ্বান

বেলপাহাড়ি মানেই কাঁকড়াঝোড়ের ট্রেকিং রুট, ঢাঙ্গীকুসুমের হদহদী ঝর্না, ঘাঘরা জলপ্রপাত কিংবা গাড়রিশিনী পাহাড়ের অভিযান। সেই সঙ্গে কেতকি ঝর্নার নীলাভ জল আর খাঁদারানী লেকের নীরবতা পর্যটকদের কাছে আগেই বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে এর বাইরেও এ বার নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এক রহস্যময় পাহাড়—যার নাম খুনডুংরি। গণ্ডারের শিং-এর মতো মাথা উঁচু করে থাকা পাথরের বিশাল স্তূপ এই অঞ্চলের পর্যটন মানচিত্রে যোগ করেছে নতুন রোমাঞ্চ।

রহস্যময় নামের গল্প—খুনডুংরি

বেলপাহাড়ির আগুইবিল থেকে গাড়রাশিনী পাহাড়ের পথে অগ্রসর হলে সামনে আসে এই নতুন পাহাড়। স্থানীয়দের কথায়, ব্যংবুটা গ্রামের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে এই খুনডুংরি। নাম শুনেই যেন বুকের ভেতর একটু শিরশিরে অনুভূতি জাগে। প্রকৃতির কোলের নিরিবিলি এই পাহাড় আজ পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ, যেখানে ভিড় দিনে দিনে বাড়ছে।

দূর থেকে দেখা যায় গণ্ডারের শিং

খুনডুংরিকে দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিশাল এক গণ্ডার যেন তার শিং উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। চারদিকে শাল-পিয়ালের বন, আর মাঝখানে মাথা উঁচিয়ে থাকা এই পাথরের স্তূপ প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। বেলপাহাড়ি ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথের কথায়, এখন পর্যটকদের নতুন গন্তব্য খুনডুংরি। শান্ত পরিবেশ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে অনেকেই এখানে ভিড় জমাচ্ছেন।

পর্যটকদের মুখে প্রশংসা

ক’দিন আগেই ঝাড়গ্রামের জেলা কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রের উপ-অধিকর্তা অরুণাভ দত্ত ঘুরে এসেছিলেন খুনডুংরি থেকে। তাঁর অভিজ্ঞতা, ‘‘অপরূপ সুন্দর জায়গা। শাল জঙ্গলের নীরবতা আর পাহাড়ি হাওয়ার মিশেল এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়।’’ তাঁর মতোই বহু পর্যটক এই পাহাড় দেখে মুগ্ধ হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করছেন। ফলে নতুন ভ্রমণপিপাসুদের কৌতূহল আরও বাড়ছে।

অন্ধকার থেকে আলোয়—বেলপাহাড়ির রূপান্তর

এক সময় বেলপাহাড়ির আগুইবিল, গোহালবেড়া, বালিচুয়া কিংবা ঢাঙ্গীকুসুম নাম শুনলেই সাধারণ মানুষ ভয় পেতেন। মাওবাদী আতঙ্কে দীর্ঘদিন পর্যটনের আলো সেখানে পৌঁছয়নি। অথচ আজ একই অঞ্চল ভরপুর পর্যটক দিয়ে। সপ্তাহান্তে হোক কিংবা উৎসবের ছুটিতে, পর্যটকের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় মানুষজন।

হোম-স্টে ও রিসর্টে কর্মসংস্থান

পর্যটনের বাড়বাড়ন্তে আজ জঙ্গলের ভিতর গড়ে উঠছে নতুন নতুন হোম-স্টে ও ছোট রিসর্ট। ফলে আয়-রোজগারের মুখ দেখছেন বেলপাহাড়ির গ্রামবাসী। একসময় যেখানে আতঙ্কে মানুষ যেতেন না, আজ সেই জায়গাই কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। দুর্গাপুজোর ছুটিতে এখানে পর্যটক বাড়ার সম্ভাবনা আরও প্রবল।

দুর্গাপুজোর ছুটিতে পারফেক্ট গন্তব্য

শান্ত পরিবেশ, ঝর্নার টান আর নতুন খুনডুংরির রোমাঞ্চ মিলিয়ে আসন্ন দুর্গাপুজোর ছুটিতে বেলপাহাড়ি হতে পারে আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য। শহরের কোলাহল ছেড়ে অল্প সময়েই পৌঁছে যাওয়া যায় এখানে। তাই সপ্তাহান্তের ছোট্ট ছুটিতেও পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এই ‘অপরূপ অথচ অচেনা’ পাহাড়ি প্রান্তরে।

Leave a comment