মোবাইল এবং ল্যাপটপ স্ক্রীনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার, এলইডি আলো এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি চোখের লালভাব, জ্বালা এবং শুষ্কতা বৃদ্ধি করছে। বাবা রামদেব চোখের যত্নের জন্য আয়ুর্বেদিক প্রতিকার হিসেবে প্রাণায়াম, ত্রিফলা ঘৃত, অ্যালোভেরা-আমলকী জুস, গোলাপ জল এবং বাদাম-মৌরি মিশ্রণ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। এই পদ্ধতিগুলি দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি এবং শুষ্কতা কমাতে সহায়ক।
চোখের স্বাস্থ্যকর টিপস: বর্তমানে মোবাইল, ল্যাপটপ এবং এলইডি আলোর অবিরাম ব্যবহারের ফলে চোখের উপর চাপ বেড়েছে, যার কারণে চোখের লালভাব, জ্বালা, শুষ্কতা এবং চোখে সংক্রমণের সমস্যা সাধারণ হয়ে উঠেছে। বাবা রামদেব চোখের সুরক্ষা এবং দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য বেশ কয়েকটি আয়ুর্বেদিক টিপস দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রাণায়াম, ত্রিফলা ঘৃত, অ্যালোভেরা-আমলকী জুস, গোলাপ জল দিয়ে চোখ ধোয়া এবং বাদাম-মৌরি-মিশ্রি সেবন, যা চোখের যত্ন এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর জন্য কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।
চোখের উপর ইলেকট্রনিক চাপ বৃদ্ধি
বর্তমান সময়ে মোবাইল স্ক্রীন, এলইডি লাইট এবং গাড়ির হেডলাইট চোখের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমেরিকার বাকনেল ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুসারে, দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র আলো এবং নীল আলোর সংস্পর্শে থাকলে চোখের নিউরনগুলি অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এর ফলে চোখের সামনে হঠাৎ অন্ধকার দেখা দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী এই সমস্যা ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, ক্যাটারাক্ট এবং ফটো-কেরাটাইটিস-এর মতো গুরুতর অবস্থায় পরিণত হতে পারে।
চোখের শুষ্কতা এবং লালভাবের কারণ
চোখে শুষ্কতা, এয়ার কন্ডিশনিং-এর দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার, মোবাইল এবং ল্যাপটপে একটানা কাজ করার মতো অভ্যাসের কারণে হয়। শুষ্কতা হলে চোখ লাল হয়ে যায় এবং জ্বালা ও চুলকানির অভিযোগ থাকে। যদি এটি সময়মতো সংশোধন না করা হয়, তবে চোখে সংক্রমণ, ফোলা এবং দুর্বল দৃষ্টিশক্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বাবা রামদেবের প্রাণায়াম এবং খাদ্যভ্যাস
চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ানোর জন্য বাবা রামদেব সকাল-সন্ধ্যা ৩০ মিনিট করে অনুরূপ-বিরোধ এবং সাতবার ভ्रामরী প্রাণায়াম করার পরামর্শ দেন। এছাড়াও, দিনে দুবার খাবার পর এক চামচ মহাত্রিফলা ঘৃত সেবনও উপকারী। চোখের দৃষ্টিশক্তি তীক্ষ্ণ করার জন্য অ্যালোভেরা এবং আমলকীর জুস পান করাও উপকারী বলে মনে করা হয়।
চোখ ধুয়ে বিশ্রাম দিন
গোলাপ জলে ত্রিফলার জল মিশিয়ে চোখ ধুলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং চোখের ফোলাভাব কমে। সারারাত ভিজিয়ে রাখা কিশমিশ, ডুমুর এবং ৭-৮টি বাদাম খাওয়াও চোখের শক্তি বাড়াতে সহায়ক।
চশমা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়
আপনি যদি চশমা থেকে মুক্তি পেতে চান, তবে বাদাম, মৌরি এবং মিশ্রীর গুঁড়ো তৈরি করে রাতে গরম দুধের সাথে সেবন করতে পারেন। এছাড়া চোখে গোলাপ জল দেওয়া, পরিষ্কার জল দিয়ে ধোয়া এবং চোখের পাতায় আলু বা শসার টুকরো রাখলে চোখ আরাম পায়।
গৃহস্থালী ঔষধি মিশ্রণ
চোখের যত্নের জন্য এটি আরেকটি আয়ুর্বেদিক প্রতিকার। এতে এক চামচ সাদা পেঁয়াজের রস, এক চামচ আদা এবং লেবুর রস, তিন চামচ মধু এবং তিন চামচ গোলাপ জল আমলকীর রসের সাথে মিশিয়ে সকাল ও সন্ধ্যায় দুই-দুই ফোঁটা চোখে দিন। এই মিশ্রণটি চোখের ফোলাভাব, জ্বালা এবং লালভাব কমাতে সাহায্য করে।