অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র অমিত শাহকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। বিজেপি অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের রূপ নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
নয়াদিল্লি: तृণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁর মন্তব্যের জন্য প্রায়শই শিরোনামে থাকেন। এবার তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মহুয়া মৈত্র এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন এবং মহুয়ার জবাব
আসলে, পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মহুয়া মৈত্র রাজ্যের ক্রমবর্ধমান অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে বলেন যে কেন্দ্র সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই বিষয়ে শুধু বিবৃতি দিয়েই চলেছে, অথচ পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে।
মহুয়া বলেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৫ই আগস্টের ভাষণে নিজেই স্বীকার করেছেন যে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ হচ্ছে এবং এর ফলে জনবিন্যাস (Demography) পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং হাততালি দিচ্ছিলেন। মহুয়া অভিযোগ করেন যে পরিস্থিতি এত গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও কেন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
বিতর্কিত মন্তব্য এবং রাজনৈতিক ঝড়
মহুয়া মৈত্র এখানেই থামেননি। তিনি অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করে বলেছেন যে যদি সীমান্ত রক্ষা করা না যায় এবং অন্য দেশের লোকেরা ভারতে অনুপ্রবেশ করে, মহিলাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে।
তাঁর মন্তব্য ছিল যে, "যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তবে সবচেয়ে প্রথমে অমিত শাহকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত।" তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
বিজেপি অভিযোগ দায়ের করেছে
মহুয়া মৈত্রোর এই মন্তব্যের পর বিজেপি তাঁর উপর আক্রমণ শানায়। নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় স্থানীয় বাসিন্দা সন্দীপ মজুমদার মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, এই ধরনের ভাষা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহ্য করা যায় না।
মহুয়া মৈত্রোর নীরবতা
বিতর্ক বাড়ার পরেও মহুয়া মৈত্র এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি। তাঁর মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। কেউ কেউ এটিকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলেছেন, আবার অনেকেই এটিকে অভদ্র ও অনুপযুক্ত আখ্যা দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টি দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক দলগুলির জন্য একটি বড় নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। বিজেপি বারবার এই বিষয়টি উত্থাপন করেছে, যেখানে তৃণমূলের অভিযোগ যে কেন্দ্র সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।