মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সহজ ঘরোয়া উপায়: জল পান, ধ্যান এবং পুষ্টিকর খাবার

মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সহজ ঘরোয়া উপায়: জল পান, ধ্যান এবং পুষ্টিকর খাবার

মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পেতে ডিহাইড্রেশন এড়ানো, পর্যাপ্ত জল পান করা, ধ্যান-প্রাণায়াম করা, ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং হালকা ব্যায়াম করা অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সহজ ঘরোয়া প্রতিকারগুলি মাইগ্রেনের ব্যথার তীব্রতা এবং পুনরাবৃত্তি উভয়ই কমাতে সাহায্য করে।

মাইগ্রেনের ব্যথা: মাইগ্রেন একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর মাথাব্যথা, যা মানসিক চাপ, ডিহাইড্রেশন এবং ভারসাম্যহীন জীবনযাত্রার সাথে যুক্ত। রাঁচির নিউরোলজিস্ট ডঃ ভি. কে. পান্ডে-এর মতে, দিনে কমপক্ষে চার লিটার জল পান করলে মাইগ্রেনের সমস্যা কমতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ধ্যান, মেডিটেশন, প্রাণায়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারকে মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য সহায়ক বলে মনে করেন। এছাড়াও হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর রুটিন গ্রহণ করলে এর লক্ষণগুলি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

জলশূন্যতা মাইগ্রেনের একটি বড় কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিহাইড্রেশন অর্থাৎ শরীরে জলের অভাব মাইগ্রেনের সবচেয়ে বড় কারণ। যখন শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল থাকে না, তখন মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না এবং মাথাব্যথার সমস্যা বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন কমপক্ষে তিন থেকে চার লিটার জল পান করা জরুরি। রাঁচির নিউরোলজিস্ট ডঃ ভি. কে. পান্ডে বলেন যে পর্যাপ্ত জল পান করলে কেবল মাইগ্রেনের লক্ষণই কমে না, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থও বেরিয়ে যায়।

হঠাৎ ব্যথা হলে হালকা গরম জল পান করুন

মাইগ্রেনে আক্রান্ত রোগীদের প্রায়শই হঠাৎ মাথাব্যথার সমস্যা হয়। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ওষুধ না খেয়ে হালকা গরম জল পান করা উপকারী হতে পারে। এক বা দুই গ্লাস হালকা গরম জল পান করলে শরীর আরাম পায় এবং রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত হয়। এছাড়াও এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়, যার ফলে মাথাব্যথা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান ও মেডিটেশন করুন

মানসিক চাপকে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ানোর সবচেয়ে বড় কারণ বলে মনে করা হয়। মানসিক চাপ মস্তিষ্কের উপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে মাথাব্যথা আরও তীব্র হতে পারে। এই সমস্যা মোকাবেলার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে আধ ঘণ্টা ধ্যান বা মেডিটেশন করা উচিত। ধ্যান করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায় এবং মন বিশ্রাম পায়। নিয়মিত মেডিটেশন করলে মানসিক চাপ কমে এবং মাইগ্রেনের আক্রমণের পুনরাবৃত্তিও কমে যায়।

খাবারে ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন

ডাক্তারদের মতে, মাইগ্রেনে আক্রান্ত রোগীদের খাবারে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব দেখা যায়। এই অভাব পূরণ করার জন্য কাজু, ডুমুর, আখরোট, পালং শাক এবং কলার মতো ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। এগুলিতে থাকা খনিজ এবং পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্ককে শক্তি জোগায় এবং ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়াও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবারও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।

প্রাণায়াম এবং হালকা ব্যায়ামও কার্যকর

যোগ এবং প্রাণায়ামকে মাইগ্রেনের জন্য প্রাকৃতিক চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট প্রাণায়াম করলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় এবং স্নায়ুতে রক্ত ​​প্রবাহ উন্নত হয়। এতে মানসিক চাপ কমে এবং মাথাব্যথার তীব্রতা হ্রাস পায়। এছাড়াও, হাঁটা বা স্ট্রেচিংয়ের মতো হালকা ব্যায়াম করলে শরীরে রক্ত ​​সঞ্চালন ভালো হয়, যা মাইগ্রেনের সমস্যা কমাতে সহায়ক।

জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তন বড় প্রভাব ফেলতে পারে

মাইগ্রেন থেকে মুক্তি পেতে কেবল ওষুধের উপর নির্ভর করা জরুরি নয়। জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তন করেও এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেমন সময়মতো ঘুমানো ও ওঠা, পর্যাপ্ত ঘুম, অ্যালকোহল এবং জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা, স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো এবং মানসিক চাপ দূর করার চেষ্টা করা। এই অভ্যাসগুলি গ্রহণ করলে কেবল মাইগ্রেনে মুক্তিই পাওয়া যায় না, শরীর ও মন উভয়ই সুস্থ থাকে।

Leave a comment