সরকার জিএসটি সংস্কারের (GST Reforms) অধীনে কোকো-ভিত্তিক চকোলেট, পেস্ট্রি, ফ্লেক্স এবং আইসক্রিমের উপর আরোপিত ১৮% কর কমিয়ে ৫% করতে পারে। এর ফলে এই জনপ্রিয় প্যাকেজড ফুডগুলির দামে বড় পতন আসবে এবং গ্রাহকরা স্বস্তি পাবেন। এই সিদ্ধান্তটি ৩-৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে নেওয়া হতে পারে।
জিএসটি সংস্কার (GST Reforms): জিএসটি সংস্কারের অধীনে সরকার কোকো-ভিত্তিক চকোলেট, পেস্ট্রি, ফ্লেক্স এবং আইসক্রিমের উপর থেকে ১৮% জিএসটি কমিয়ে ৫% করার কথা বিবেচনা করছে। এর ফলে এই জনপ্রিয় প্যাকেজড ফুডগুলির দাম কমবে এবং ভোক্তাদের স্বস্তি মিলবে। ফিটমেন্ট কমিটি সুপারিশ করেছে যে করের স্ল্যাবে পরিবর্তন আনলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলি সস্তা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি ৩ এবং ৪ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য জিএসটি কাউন্সিলের ৫৬তম বৈঠকে নেওয়া হবে।
শিশু এবং তরুণদের জন্য স্বস্তি
চকোলেট, পেস্ট্রি এবং আইসক্রিম শিশু এবং তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য সামগ্রী। যদি জিএসটি স্ল্যাবে পরিবর্তন আনা হয়, তবে এগুলির দাম কমবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি হবে। এর পাশাপাশি, এই প্যাকেজড ফুড পণ্যগুলি আরও বেশি মানুষের কাছে সহজলভ্য হবে।
জিএসটি ২.০ এবং ফিটমেন্ট কমিটির সুপারিশ
জিএসটি ২.০ (GST 2.0) এর অধীনে চলমান সংস্কারের অংশ হিসাবে, ফিটমেন্ট কমিটি সুপারিশ করেছে যে কোকোযুক্ত চকোলেট, শস্য থেকে তৈরি ফ্লেক্স, পেস্ট্রি এবং আইসক্রিমের মতো পণ্যগুলিতে প্রযোজ্য ১৮% জিএসটি কমিয়ে ৫% করা উচিত। এই পদক্ষেপটি ভোক্তাদের জন্য এই পণ্যগুলি আরও সাশ্রয়ী মূল্যের করে তোলার পাশাপাশি বাজারে চাহিদা বাড়াতেও সাহায্য করবে।
জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক
আগামী সপ্তাহে, অর্থাৎ ৩ এবং ৪ সেপ্টেম্বর, নয়াদিল্লিতে জিএসটি কাউন্সিলের ৫৬তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে ফিটমেন্ট কমিটির সুপারিশের উপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কাউন্সিল যদি এটিকে অনুমোদন করে, তবে চকোলেট এবং আইসক্রিমের দাম কমবে। এছাড়াও, পেস্ট্রি এবং ফ্লেক্সও আগের চেয়ে অনেক সস্তা হবে।
শহর এবং আধা-শহর অঞ্চলগুলিতে প্রভাব
এই পরিবর্তনের ফলে শুধু বড় শহরগুলিতেই নয়, আধা-শহর অঞ্চলগুলিতেও চকোলেট, পেস্ট্রি এবং ফ্লেক্সের মতো নাস্তার আইটেমগুলি সস্তা হবে। এই পদক্ষেপটি এই পণ্যগুলির সহজলভ্যতা এবং জনপ্রিয়তা উভয়ই বাড়াতে সাহায্য করবে।
জিএসটি হ্রাসের ফলে সাধারণ জনগণের সুবিধা
বর্তমানে ১৮% স্ল্যাবে অন্তর্ভুক্ত পণ্যগুলি জিএসটি থেকে মোট রাজস্বের একটি বড় অংশ সরবরাহ করে। তবে, সরকারের উদ্দেশ্য হল নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগপণ্যের উপর কর কমানো। এর ফলে সাধারণ জনগণের পকেটের উপর চাপ কমবে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ হ্রাস পাবে।
অফিসিয়াল সূত্র জানাচ্ছে যে ব্যাপকভাবে কেনা খাদ্য সামগ্রীর উপর জিএসটি হার কমালে ভোক্তাদের সুবিধা হবে এবং পরোক্ষ কর পরিকাঠামোকে সুবিন্যস্ত করতে সাহায্য করবে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লাল কেল্লা থেকে জিএসটি সংস্কারের ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে দীপাবলির আগে নতুন জিএসটি সংস্কার কার্যকর করা হবে, যার মধ্যে বর্তমান হারগুলির পর্যালোচনা এবং করের স্ল্যাবগুলি যুক্তিযুক্ত করা হবে।
অর্থমন্ত্রকের সূত্র অনুসারে, জিএসটি স্ল্যাবে এই ধরনের পরিবর্তন কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলির আয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আনুমানিক করা হচ্ছে যে এর ফলে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব হ্রাস হতে পারে।