ভারত ২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজন করতে প্রস্তুত: প্রস্তুতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া

ভারত ২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজন করতে প্রস্তুত: প্রস্তুতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া

ভারত খেলার জগতে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমনওয়েলথ গেমস ২০২৩-এর জন্য দাবি জানানোর পর, এবার ভারতের লক্ষ্য হল অলিম্পিক ২০৩৬-এর আয়োজন করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং আহমেদাবাদকে সম্ভাব্য হোস্ট সিটি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

স্পোর্টস নিউজ: ভারত কমনওয়েলথ গেমস ২০২৩-এর আয়োজনের জন্য আনুষ্ঠানিক দাবি পেশ করেছে এবং এরপর দেশের নজর অলিম্পিক ২০৩৬-এর দিকে। অলিম্পিকের আয়োজন লাভ করার জন্য, প্রথমে ইচ্ছুক দেশকে ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি (IOC)-কে তাদের আগ্রহপত্র (interest letter) মারফত জানাতে হয়। এরপর IOC সেই শহর ও দেশের পরিকাঠামো, ক্রীড়া সুবিধা, পরিবহন, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা মূল্যায়ন করে।

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিস্তারিত বিড বুক (bid book), সরকারি গ্যারান্টি এবং আর্থিক পরিকল্পনা জমা দিতে হয়। এর পরে IOC সদস্যদের দ্বারা শহরগুলির পরিদর্শন এবং প্রতিবেদন তৈরি করা হয়, এবং তারপর ভোটের মাধ্যমে আয়োজক শহর নির্বাচন করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে যে ভারত ২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজন করতে পারবে কিনা।

অলিম্পিক আয়োজনের প্রক্রিয়া

অলিম্পিক গেমসের আয়োজন নির্ধারণের দায়িত্ব ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি (IOC)-এর উপর বর্তায়। কোনো দেশ বা শহরকে এর আয়োজন করার জন্য একটি দীর্ঘ এবং জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই প্রক্রিয়াটি চারটি প্রধান ধাপে বিভক্ত:

ধাপ ১: প্রাথমিক আলোচনা (Continuous Dialogue)

সর্বপ্রথমে, যে দেশকে আয়োজন করতে হয়, সেখানকার ন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি (NOC) এবং IOC-এর মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হয়। এতে সেই শহর বা অঞ্চলের উপর আলোচনা করা হয়, যেখানে আয়োজন সম্ভব। এই ধাপটি সম্পূর্ণরূপে তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্ভাবনাগুলি বোঝার উপর ভিত্তি করে গঠিত।

ধাপ ২: গেমস প্ল্যানের রূপরেখা

এই পর্যায়ে NOC এবং IOC-এর মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলতে থাকে। IOC দেখে যে প্রস্তাবিত শহর বা অঞ্চল অলিম্পিকের জন্য কতটা প্রস্তুত এবং সেখানে কী ধরনের সুবিধা রয়েছে।

  • আয়োজক শহরকে একটি গেমস প্ল্যান (Games Plan) তৈরি করতে হয়।
  • এতে পরিকাঠামো, ক্রীড়া ক্ষেত্র, খেলোয়াড় এবং দর্শকদের সুবিধা, পরিবহন, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি সম্পর্কিত সমস্ত দিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  • IOC এটাও দেখে যে এই আয়োজন থেকে স্থানীয় নাগরিক এবং শহর কীভাবে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা পাবে।

ধাপ ৩: টার্গেটেড ডায়ালগ (Targeted Dialogue)

যখন IOC মনে করে যে কোনো দেশ বা শহর আয়োজনের জন্য গুরুতর এবং তাদের প্রস্তুতি সুদৃঢ়, তখন তাদের টার্গেটেড ডায়ালগের জন্য ডাকা হয়। এই প্রক্রিয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়, যেমন:

  • আয়োজনের আনুমানিক খরচ
  • পরিবেশগত প্রভাব (Environmental Impact)
  • স্থানীয় জনগণের সমর্থন
  • পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা

IOC-এর ফিউচার হোস্ট কমিশন (Future Host Commission) এই সমস্ত বিষয়গুলির উপর গভীর অধ্যয়ন করে এবং প্রতিবেদন তৈরি করে।

ধাপ ৪: ভোট এবং নির্বাচন

যদি কোনো নির্দিষ্ট বছরের জন্য একাধিক দেশ দাবিদার হয়, তবে IOC চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ করে। এই সময়ে:

  • সমস্ত প্রার্থী দেশ তাদের উপস্থাপন (Final Presentation) IOC সেশনে প্রদান করে।
  • এর পরে IOC সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেন।
  • যে দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে, তাদের সাথে IOC হোস্ট সিটি চুক্তি (Host City Contract) স্বাক্ষর করে।
  • এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই শহর এবং দেশ অলিম্পিকের আয়োজন লাভ করে।

ভারত সম্প্রতি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৩-এর জন্য দাবি পেশ করেছে। এর জন্য আহমেদাবাদকে প্রস্তাবিত শহর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদি ভারত কমনওয়েলথের মতো বড় আয়োজন সফলভাবে পরিচালনা করে, তবে এটি ভবিষ্যতে অলিম্পিক আয়োজনের দিকে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হবে।

Leave a comment