কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভবন ক্ষতিগ্রস্ত। কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু। জেলেনস্কি ও ইইউ-এর তীব্র নিন্দা। নাগরিক সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি।
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই হামলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর প্রতিনিধি কার্যালয়ের ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউরো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত ক্যাটরিনা ম্যাথেরনোভা জানিয়েছেন যে ভবনটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, কিন্তু সেখানে উপস্থিত কর্মীরা অক্ষত রয়েছেন।
তবে, হামলায় কমপক্ষে ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। হামলাটি রাতে হওয়ায় সাধারণ আবাসিক ভবন এবং আশেপাশের এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রাষ্ট্রদূত ক্যাটরিনা ম্যাথেরনোভা এটিকে রাশিয়ার শান্তি প্রচেষ্টার প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে ইইউ এই আগ্রাসন সহ্য করবে না। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্টাও হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ইউক্রেনীয় নাগরিক ও ইইউ কর্মীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসন আমাদের সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না এবং এটি আমাদের সবাইকে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আরও শক্তিশালী করে তোলে। ইউরোপীয় কমিশনের কমিশনার মার্তা কসও হামলার সমালোচনা করেছেন এবং ইউক্রেনীয় নাগরিকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির নিন্দা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার নিন্দা করেছেন এবং এটিকে নাগরিকদের জন্য বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। এক্স (পূর্বের টুইটার) এ তিনি লিখেছেন যে কিয়েভে উদ্ধারকর্মীরা ইতিমধ্যেই আবাসিক ভবনগুলির ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, কমপক্ষে ৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। তিনি নিহতদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে এই হামলা শহর ও সম্প্রদায়ের উপর একটি বড় সংকট।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া
এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউক্রেন এটিকে আন্তর্জাতিক আইন এবং নির্যাতন প্রতিরোধ চুক্তির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও স্পষ্ট করেছে যে রাশিয়ার এই আগ্রাসন তাদের কর্মীদের এবং প্রতিনিধি দলের জন্য একটি হুমকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার উদ্দেশ্য কেবল সামরিক চাপ সৃষ্টি করা নয়, বরং বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করাও। রাশিয়া দীর্ঘকাল ধরেই যুদ্ধাপরাধ এবং বেসামরিক নাগরিকদের উপর নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে আসছে।