মুখের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখবে মুসুর ডাল ঘরোয়া প্যাকের মাধ্যমে পান ত্বকের জেল্লা ও সতেজতা

মুখের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখবে মুসুর ডাল ঘরোয়া প্যাকের মাধ্যমে পান ত্বকের জেল্লা ও সতেজতা

ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব যেমন সৌন্দর্যের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে, তেমনই অনেক 

সময় ঘাম ও ধুলোয়ের কারণে মুখে অস্বস্তি দেয়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় অফিসে বা বাইরে কাটান, তাদের জন্য এই তেলতেলে ভাব আরও বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। এই সমস্যার সহজ এবং প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে বহু ঘরোয়া টোটকায় মুসুর ডালকে শীর্ষে রাখা হয়। মেকআপ বা ফেসওয়াশ দিয়ে যতই মুখ ধুয়েই নিন, দিনের মধ্যভাগে আবারও তেলতেলে ভাব ফিরে আসে। বিউটিশিয়ানদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, মুসুর ডাল একপ্রকার প্রাকৃতিক ক्लीজার, যা ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্তি শোষণ করতে সাহায্য করে। তবে শুধু মুসুর ডালই ব্যবহার করলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, যা অনেকের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ত্বকের ধরন ও সমস্যা অনুযায়ী উপকরণগুলিকে মিশিয়ে ব্যবহার করাই সর্বোত্তম।

মুসুর ডাল ও অ্যালোভেরা জেল:

যারা তৈলাক্ত ত্বকের সঙ্গে স্পর্শকাতর ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য মুসুর ডালের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা সবচেয়ে কার্যকরী। অ্যালোভেরা ত্বককে শান্ত রাখে এবং অতিরিক্ত তৈলাক্তি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। প্যাকটি তৈরির সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যে ডাল ও জেলের মিশ্রণ যেন খুব ঘন না হয়, যাতে ত্বকের ওপর সহজেই মাখা যায়। প্রথমে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন, তারপর মিশ্রণটি সমানভাবে মুখে লাগিয়ে প্রায় ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’বার এই প্যাক ব্যবহারে মুখের তেলতেলে ভাব কমবে, ত্বক হবে নরম, সতেজ এবং প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরে পাবে। এই পদ্ধতি প্রাকৃতিক হওয়ায় ত্বকের সংবেদনশীলতা বাড়ায় না এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের স্বাস্থ্যও রক্ষা করে।

মুসুর ডাল ও টক দই:

তৈলাক্ত ত্বকে ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডসের সমস্যাও কম নয়। সেইজন্য মুসুর ডালের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যেতে পারে। টক দই প্রাকৃতিক ল্যাকটিক অ্যাসিড সরবরাহ করে, যা মুখের মৃত কোষ দূর করে এবং মুখের তেলতেলে ভাব কমাতে সহায়তা করে। মিশ্রণটি মুখে মাখে প্রায় ১৫ মিনিট রেখে গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিলে মুখের তেল নিয়ন্ত্রণে আসে। সপ্তাহে একবার এই প্যাক ব্যবহার করলেও তেল কমে যায়, মুখের ত্বক হয় মসৃণ এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বল। যারা নিয়মিত ফেসওয়াশের পরও তেল সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই প্যাক খুব কার্যকরী। এছাড়া টক দইয়ের কৃত্রিম রাসায়নিক থাকেনা, ফলে ত্বক ঝুঁকিপূর্ণ হয় না।

মুসুর ডাল ও কাঁচা হলুদ:

তৈলাক্ত ত্বক শুধু তেলতেলে ভাবই বাড়ায় না, ব্রণ ও ফুসকুড়ির সমস্যা ও সৃষ্টি করে। সেইজন্য মুসুর ডালের সঙ্গে কাঁচা হলুদ মিশিয়ে প্যাক করা একটি চমৎকার ঘরোয়া সমাধান। হলুদে উপস্থিত কারকিউমিন প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান হিসেবে কাজ করে, যা ব্রণ প্রতিরোধে সহায়তা করে। চাইলে পুরো মুখে বা ব্রণযুক্ত স্থানে বিন্দু বিন্দু করে লাগানো যায়। দিনে দু’বার এই পদ্ধতিতে প্যাক ব্যবহারে মুখের অতিরিক্ত তেল ও ব্রণ উভয়ই কমে যায়। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হয় মসৃণ, সতেজ এবং ঝকঝকে।

বিশেষ টিপস ও সাবধানতা:

এই মুসুর ডাল ভিত্তিক প্যাক ব্যবহারের সময় কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি। প্রথমত, ত্বকের সংবেদনশীলতা অনুযায়ী উপকরণগুলো মিশ্রণ করুন। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ঘন প্যাক ত্বককে শুষ্ক করতে পারে, তাই হালকা মিশ্রণ ব্যবহার করুন। তৃতীয়ত, প্রাকৃতিক এসেনশিয়াল অয়েল যেমন লেমনগ্রাস, ল্যাভেন্ডার বা গোলাপ জলে কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে দিলে গন্ধ ও প্রাকৃতিক যত্ন দু’ই পাওয়া যায়। নিয়মিত ব্যবহারে মুখের তৈলাক্ত ভাব নিয়ন্ত্রণে থাকে, ত্বক থাকে সতেজ, উজ্জ্বল এবং ব্রণ কমে যায়।

 উপসংহার

মুসুর ডাল একটি প্রাচীন ঘরোয়া উপাদান যা ত্বকের তৈলাক্ত ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ব্রণ প্রতিরোধে কার্যকর। অ্যালোভেরা জেল, টক দই ও কাঁচা হলুদের সঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করলে মুখের তেল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ত্বক হয়ে ওঠে স্বাস্থ্যকর, মসৃণ ও ঝকঝকে। যারা কৃত্রিম পারফিউম বা রাসায়নিকযুক্ত ফেস প্রোডাক্টের ঝুঁকি নিতে চান না, তাদের জন্য এটি একটি নিরাপদ ও কার্যকরী সমাধান। প্রতিদিনের রুটিনে এই প্যাক ব্যবহার করে ঘরে বসেই ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব, তেলতেলে ভাব ও ব্রণ সমস্যা দূর করা যায়।

Leave a comment