রাহুলের একরোখা বার্তা কংগ্রেস অফিসে হামলায় তীব্র উত্তেজনা সংঘর্ষে কেঁপে উঠল পাটনা!

রাহুলের একরোখা বার্তা কংগ্রেস অফিসে হামলায় তীব্র উত্তেজনা সংঘর্ষে কেঁপে উঠল পাটনা!

কংগ্রেস দফতরে রণক্ষেত্রের চিত্র

শুক্রবার দুপুরে বিহার প্রদেশ কংগ্রেস দফতরের সামনেই তৈরি হয় রণক্ষেত্রের ছবি। কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে লাঠি, বাঁশ, ইঁট-পাথরের বৃষ্টি শুরু হয়। হঠাৎ করেই এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, রাস্তার পরিবেশ মুহূর্তেই বদলে যায়।

মৌলালিতেও বিক্ষোভের আঁচ

পাটনার পাশাপাশি কলকাতার মৌলালির কংগ্রেস দফতরের সামনে গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। সেখানেও উত্তেজনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, দরভাঙ্গায় রাহুল গান্ধীর ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’র মঞ্চ থেকেই মূল অশান্তির সূত্রপাত।

বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে ঝড়

বিজেপির দাবি, কংগ্রেসের এক নেতা সেই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রয়াত তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষায় মন্তব্য করেন। ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতাকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন। সকাল থেকেই বিহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি সমর্থকেরা কংগ্রেস দফতরের সামনে জড়ো হতে থাকেন।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে সংঘর্ষ

বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, তারা প্রথমে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ কংগ্রেস অফিসের ভিতর থেকে ইঁট-পাথর ছোড়া হয়। সেই ঘটনাতেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। মুহূর্তে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। বিজেপি কর্মীদের একাংশ কংগ্রেস দফতরের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে।

গাড়ি, বাইক ভাঙচুরে আতঙ্ক

চোখের সামনে রণক্ষেত্র। দফতরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বাইক, চারচাকা গাড়ি, এমনকি আশেপাশের দোকানের শাটারও ভাঙচুর করা হয়। কংগ্রেস কর্মীদের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা পূর্ব পরিকল্পনা করে অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে। বহু কর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

রাহুল গান্ধীর একরোখা প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পরপরই রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ পোস্ট করেন। তিনি লিখেছেন— “সত্য আর অহিংসার বিরুদ্ধে মিথ্যা আর হিংসা কোনওদিন জিততে পারে না। যতই মারো, যতই ভাঙো, আমরা সত্য ও সংবিধানের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাব। সত্যমেব জয়তে।” রাহুলের এই একরোখা বার্তা কংগ্রেস শিবিরে নতুন করে উদ্দীপনা জুগিয়েছে।

জেডিইউ নেতার সমালোচনা

বিহার সরকারের মন্ত্রী ও জেডিইউ নেতা অশোক চৌধুরী বিজেপি কর্মীদের হিংসাত্মক আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন— “কোনও দলের কর্মীরা অন্য দলের দফতরে ঢুকে অশান্তি সৃষ্টি করলে তা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য গভীর হুমকি। এমন বর্বরতাকে কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না।”

ভিডিওতে ধরা পড়ল হিংসার দৃশ্য

আজ তকের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে ভয়ঙ্কর সব ছবি। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি কর্মীরা দফতরের গেট লাথি মেরে ভাঙছে, তারপর প্রবেশ করছে। আরেক ভিডিওতে দেখা যায়, দুই দলের কর্মীরা দলীয় পতাকা বাঁধা লাঠি দিয়ে একে অপরকে বেধড়ক মারছে। এলাকা জুড়ে হাহাকার, চিৎকার-চেঁচামেচি।

আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

এই সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বহু দোকানদার দ্রুত শাটার নামিয়ে পালান। রাস্তার যান চলাচল ব্যাহত হয়। আতঙ্কে পড়ে স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীরাও বিপাকে পড়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ছিল না বলেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।

কংগ্রেসের অভিযোগে পাল্টা রাজনীতি

কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পনা করে এই হামলা চালিয়েছে, যাতে রাহুল গান্ধীর আন্দোলন ভেস্তে দেওয়া যায়। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, কংগ্রেসই আগে উসকানি দিয়েছে, তাই জনরোষ তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উত্তেজনা আরও চড়তে শুরু করেছে।

রাহুলের বার্তা: ‘লড়াই চলবেই’

শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধী আবারও স্পষ্ট করে দেন— হিংসা তাঁকে ভয় দেখাতে পারবে না। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বার্তা দেন— “লড়াই চলবে, যতই বাধা আসুক না কেন।” তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেস সমর্থকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ছে।

Leave a comment