শিবগামিনী থেকে লীলা: রাম্যা কৃষ্ণনের অনবদ্য রূপান্তর 'সুপার ডিলাক্স' ছবিতে

শিবগামিনী থেকে লীলা: রাম্যা কৃষ্ণনের অনবদ্য রূপান্তর 'সুপার ডিলাক্স' ছবিতে

ভারতীয় সিনেমায় কিছু শিল্পী তাদের ভূমিকার গভীরতা এবং বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত, এবং রাম্যা কৃষ্ণন তাদের মধ্যে একজন। তাঁর অভিনয় বহুবার দর্শক এবং সমালোচকদের মন জয় করেছে।

বিনোদন: ভারতীয় সিনেমার জগতে কিছু অভিনেতা ও অভিনেত্রী তাঁদের বহুমুখী প্রতিভা এবং বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন। এঁদের মধ্যে একজন হলেন রাম্যা কৃষ্ণন, যাঁকে দর্শকরা আজও ‘বাহুবলী’ ছবির শিবগামিনী দেবীরূপে মনে রেখেছেন। তাঁর শক্তিশালী অভিনয় এবং পর্দায় উপস্থিতি তাঁকে প্যান-ইন্ডিয়া স্তরে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

তবে খুব কম লোকেই জানেন যে, রাম্যা কৃষ্ণন এমন একটি ছবিতেও অভিনয় করেছেন যেখানে তিনি অত্যন্ত সাহসী এবং চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই চরিত্রটি ছিল একজন প্রাক্তন অ্যাডাল্ট ফিল্ম স্টারের, যা সমাজে নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। আমরা তামিল ছবি ‘সুপার ডিলাক্স’-এর কথা বলছি, যা তার গল্প এবং শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছে।

‘সুপার ডিলাক্স’-এর গল্প – এক অনন্য সিনেমাটিক যাত্রা

তামিল ছবি ‘সুপার ডিলাক্স’ প্রচলিত ছবির সীমা অতিক্রম করে তৈরি হয়েছিল। এতে একাধিক গল্প একসঙ্গে বোনা হয়েছে, যা সমাজ, নৈতিকতা, পরিচয় এবং ব্যক্তিগত সংগ্রাম-এর মতো জটিল বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করে। ফাহাদ ফাসিল এতে মুগিল-এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি একজন সাধারণ স্বামী। তাঁর জীবন তখন ওলট-পালট হয়ে যায় যখন তিনি তাঁর স্ত্রী ভেম্বু (সামান্থা রুথ প্রভু)-কে একটি আপত্তিকর পরিস্থিতিতে দেখে ফেলেন। এর পরে ঘটনার এক জটিল ধারা শুরু হয়, যা ছবিতে সাসপেন্স এবং আবেগ উভয়ই যোগ করে।

অন্যদিকে, বিজয় সেতুপতি शिल्पा নামক এক রূপান্তরকামী নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। शिल्पा বহু বছর পর তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে আসে, কিন্তু সামাজিক কুসংস্কার এবং গ্রহণযোগ্যতার লড়াই তাঁর জীবনকে অত্যন্ত কঠিন করে তোলে। বিজয় সেতুপতির এই ভূমিকা ছবিটির প্রাণ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তাঁর অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।

রাম্যা কৃষ্ণন হলেন প্রাপ্তবয়স্ক তারকা ‘লীলা’

এই গল্পগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং বিতর্কিত চরিত্র ছিল লীলার, যা রাম্যা কৃষ্ণন অভিনয় করেছেন। লীলা একজন প্রাক্তন প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, যিনি তাঁর ছেলের সুখ এবং ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করেন। কিন্তু তাঁর অতীত বারবার তাঁর বর্তমানকে প্রভাবিত করে। লীলার চরিত্রটি কেবল একজন মায়ের সংগ্রাম দেখায় না, বরং এটি সমাজের সেই দ্বৈত মানগুলিও উন্মোচন করে, যেখানে মহিলাদের তাঁদের অতীতের কারণে বারবার বিচার করা হয়।

৫৪ বছর বয়সে রাম্যা কৃষ্ণন এই চ্যালেঞ্জিং এবং সংবেদনশীল চরিত্রে অভিনয় করে প্রমাণ করেছেন যে তিনি কেবল মহাকাব্যিক ছবির রানীই নন, বরং সব ধরনের ভূমিকায় মানিয়ে নিতে পারা এক বহুমাত্রিক শিল্পী।

ছবিতে আরেকটি উপপ্লটে কিশোর-কিশোরীদের একটি দল জড়িত, যারা একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের পরে সমস্যায় পড়ে। এই চরিত্রগুলির মাধ্যমে ছবিটি দেখায় যে কীভাবে যুবকরা প্রায়শই নৈতিক দ্বিধা এবং সামাজিক চাপের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। এই সমস্ত গল্প অত্যন্ত সুন্দরভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। পরিচালক থিয়াগারাজন কুমাররাজা ছবিটি এমনভাবে তৈরি করেছেন যে এটি প্রতিটি দর্শককে গভীরভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে।

‘সুপার ডিলাক্স’ কেবল বিনোদনই দেয় না, বরং সমাজের সামনে একটি আয়নাও ধরে। ছবিটি প্রশ্ন তোলে যে, একজন মহিলাকে তাঁর অতীতের ভিত্তিতে বিচার করা কি সঠিক? রূপান্তরকামী ব্যক্তিরা কি সমাজে পূর্ণ সম্মান পান? এবং প্রত্যেক মানুষ কি তাঁর ভেতরের অপরাধবোধ ও নৈতিক দ্বিধা থেকে মুক্তি পেতে পারে?

Leave a comment