তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফের বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করলেন। বুধবার কলকাতার সভা থেকে তিনি জানালেন, ক্ষমতা থাকলে বিজেপি বাংলায় ৫০ আসন পার করুক, তাহলেই দেখবে প্রকৃত লড়াই। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট—আগামী বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে বিজেপিকে একেবারে কোণঠাসা করাই তৃণমূলের লক্ষ্য।
‘বাংলাদেশি’ বিতর্ককে হাতিয়ার করলেন অভিষেক
অভিষেকের বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল বিজেপির অভিযোগ ও কটাক্ষের পাল্টা উত্তর। তিনি বলেন, তৃণমূলকে ছোট করার জন্য আমাদেরকে বাংলাদেশি বলে বিদ্রূপ করেছে বিজেপি নেতারা। এর বিরুদ্ধে ১০ কোটি বঙ্গবাসীর লড়াই শুরু হয়েছে।” এই মন্তব্যে তিনি বোঝাতে চাইলেন, বিজেপি যদি আক্রমণাত্মক রাজনীতি করে, তবে তৃণমূল আরও সংগঠিতভাবে মাঠে নামবে।
সাজানো-গোছানো রাজনীতির বার্তা
অভিষেক বলেন, “আমরা সাজিয়ে দাও, গুছিয়ে দাও রাজনীতি করি।” অর্থাৎ তৃণমূল সংগঠনকে এমনভাবে গড়ে তুলছে যাতে আগামী নির্বাচনে একতাবদ্ধ শক্তি হিসেবে তারা লড়াই করতে পারে। বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে তাঁর সুর ছিল তীব্র, তবে বক্তব্যে জোর ছিল সংগঠনকে মজবুত করে একক লক্ষ্য পূরণের অঙ্গীকারে।
শুভেন্দুকে লক্ষ্য করেই চ্যালেঞ্জ?
তৃণমূলের অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠেছে—অভিষেকের এই চ্যালেঞ্জ আসলে কি বিজেপি বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীকেই উদ্দেশ্য করে ছোড়া? কারণ শুভেন্দুই বারবার দাবি করেন, ২০২৬-এ বাংলায় বিজেপিই ক্ষমতায় আসবে। অভিষেকের বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, তিনি শুভেন্দুর জয়ের হিসেবকেই আঘাত করতে চাইছেন। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
৫০ আসনের সীমারেখা কেন?
অভিষেকের ‘৫০ আসন’ মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা মত দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, তৃণমূল বুঝিয়ে দিতে চাইছে—বাংলায় বিজেপির শক্তি আসলে সীমিত। ২০২১-এ তারা ৭৭ আসন জিতলেও, এবার সংগঠন ভাঙন ও মানুষের অসন্তোষে আসন সংখ্যা অর্ধেকেরও কমে যেতে পারে। অভিষেকের চ্যালেঞ্জ তাই সংখ্যার লড়াইয়ে একপ্রকার মানসিক চাপ সৃষ্টি।
রাজনীতির মঞ্চে জনমত দখলের খেলা
অভিষেকের এই বক্তৃতা নিছক দলীয় কর্মসূচি নয়, জনমত তৈরিরও একটি বড় পদক্ষেপ। তিনি চেয়েছেন সাধারণ মানুষের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দিতে যে, বিজেপি বাংলার সংস্কৃতিকে আঘাত করছে। বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি আবেগী সংযোগ তৈরির চেষ্টা করেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশল গ্রামীণ ও শহুরে উভয় ভোটব্যাঙ্কেই প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজেপির পাল্টা জবাবের অপেক্ষা
এদিকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেকের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহল থেকে সূত্রের খবর, তারা অভিষেকের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। শুভেন্দু অধিকারী হয়তো আবারও পাল্টা সভা করে আক্রমণ শানাতে পারেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই বক্তব্য-প্রতিবক্তব্যে আসন্ন নির্বাচন আরও উত্তপ্ত হবে।
বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চ্যালেঞ্জ নিঃসন্দেহে তৃণমূলের কৌশলগত চাল। এতে বোঝা যাচ্ছে, আগামী দিনে বিজেপিকে টক্কর দেওয়ার জন্য তৃণমূল আক্রমণাত্মক ভঙ্গি নিতে চাইছে। রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, একদিকে শুভেন্দু অধিকারী-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বৈরথ, অন্যদিকে ভোটের আগেই বিজেপি ও তৃণমূল উভয় শিবিরের ভিতরে অস্থিরতা বেড়ে যাবে।
চ্যালেঞ্জে ঘনীভূত হচ্ছে লড়াই
অভিষেকের এই বক্তব্য প্রমাণ করে দিল—বাংলার রাজনীতিতে লড়াইয়ের মঞ্চ ইতিমধ্যেই তৈরি। বিজেপি কত আসন জিতবে, তৃণমূলের সংগঠন কতটা শক্তিশালী হবে—তা আগামী নির্বাচনের ফলেই জানা যাবে। তবে আপাতত তাঁর এই চ্যালেঞ্জ ঘিরে বঙ্গ রাজনীতি নতুন করে সরগরম।