প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ৩১শে আগস্ট চীনে সাক্ষাৎ করবেন। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) সম্মেলনের বাইরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শুল্ক যুদ্ধ এবং পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্যে এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
PM Modi Meet Xi Jinping: বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তনের মাঝে ভারত ও চীনের শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাৎের দিকে সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের মধ্যে এই বৈঠক আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনেক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ বিষয় হলো, এই সাক্ষাৎ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) সম্মেলনের বাইরে অনুষ্ঠিত হবে এবং এর আলোচ্যসূচি বিশ্ব ও আঞ্চলিক বিষয়গুলির উপর কেন্দ্রীভূত হবে।
৩১শে আগস্ট থেকে ১লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত SCO সম্মেলন
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৩১শে আগস্ট থেকে ১লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিতব্য SCO শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করবেন। এই সময়কালে তিনি বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ হবে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সাথে। জানা গেছে, ৩১শে আগস্ট দুই নেতা মুখোমুখি বসবেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। এই বৈঠক বিশেষ কারণ এই যে, সাত বছর পর প্রধানমন্ত্রী মোদি চীনে যাচ্ছেন। পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎ ভারত-চীন সম্পর্কের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
শুল্ক যুদ্ধের মাঝে বৈঠকের গুরুত্ব
আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে সম্প্রতি ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এই বৈঠককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। আমেরিকান রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এছাড়াও আমেরিকা চায় যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল না কিনুক। কিন্তু ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এটি তার অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থের সঙ্গে কোনও আপস করবে না।
এমন পরিস্থিতিতে চীনের সাথে এই বৈঠক ভারতের জন্য কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এই সাক্ষাৎ কেবল অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলিকেও প্রভাবিত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বিশ্ব কূটনীতির মতো বিষয়গুলি আলোচিত হতে পারে।
SCO সম্মেলনে বড় নেতাদের উপস্থিতি
এবারের SCO সম্মেলনে বেশ কয়েকজন বড় নেতা অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রবোও সুবিয়ান্তো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুইজ্জু। এত বড় সংখ্যক নেতার উপস্থিতি এই সম্মেলনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
ভারত-চীন সম্পর্কের উপর কী প্রভাব পড়বে
ভারত ও চীনের সম্পর্কের মধ্যে গত কয়েক বছরে অনেক উত্থান-পতন এসেছে। গালওয়ান উপত্যকার ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েছিল। যদিও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীন ভারতের একটি বড় অংশীদার রয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মোদি ও জিনপিংয়ের এই সাক্ষাৎ সম্পর্কে নতুন উষ্ণতা আনতে পারে।
আমেরিকার উপরও থাকবে নজর
ভারত ও চীনের এই সাক্ষাৎের দিকে আমেরিকার নজরও থাকবে। আমেরিকা চায় না ভারত চীনের সাথে তার সম্পর্ক জোরদার করুক, বিশেষ করে যখন আমেরিকা-চীন সম্পর্ক ইতিমধ্যেই উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। আমেরিকার এই উদ্বেগ এই কারণেও যে, ভারত তার ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সূত্র অনুযায়ী, এই বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্যের ভারসাম্য এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়াও আঞ্চলিক শান্তি, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এবং বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো বিষয়গুলিও আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে।