বিহার সরকার ঘোষণা করল 'মুখ্যমন্ত্রী মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্প': এবার ১০ হাজার টাকা সহ ২ লক্ষ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা

বিহার সরকার ঘোষণা করল 'মুখ্যমন্ত্রী মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্প': এবার ১০ হাজার টাকা সহ ২ লক্ষ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা

বিহার সরকার মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্পের ঘোষণা করেছে। প্রতিটি পরিবারের একজন মহিলাকে ব্যবসা শুরু করার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তি সেপ্টেম্বরে ১০ হাজার টাকা এবং ভালো পারফরম্যান্স করলে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে।

পাটনা: বিহার সরকার মুখ্যমন্ত্রী মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্প (CM Mahila Rozgar Yojana) ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের একজন মহিলাকে তাদের ব্যবসা বা কর্মসংস্থান শুরু করার জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা এবং স্বাবলম্বী করে তোলা। এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তি সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ দেওয়া হবে, যেখানে প্রত্যেক মহিলা ১০ হাজার টাকা করে পাবেন।

উল্লেখ্য যে প্রকল্পের সুবিধা কেবল শুরুর দিকেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ছয় মাস মূল্যায়নের পর, যারা ভালো পারফরম্যান্স করবে, তাদের ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। 

প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং তাৎপর্য

মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই প্রকল্পটিকে নারী ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা কেবল আর্থিক সাহায্যই পাবেন না, বরং তাদের ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং সহায়তাও প্রদান করা হবে। সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল মহিলারা তাদের দক্ষতা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের পরিবারের আয় বৃদ্ধি করতে পারবে এবং তাদের বাইরে গিয়ে চাকরির সন্ধানে বাধ্য হতে হবে না।

প্রকল্পটি গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগ দ্বারা বাস্তবায়িত হবে এবং প্রয়োজনে নগর উন্নয়ন ও আবাসন বিভাগের সহায়তাও নেওয়া হবে। এই উদ্যোগের ফলে মহিলাদের অবস্থার উন্নতি হবে এবং রাজ্যে কর্মসংস্থানের ভালো সুযোগ তৈরি হবে।

সেপ্টেম্বরে প্রথম কিস্তি শুরু

প্রধান সচিব অমৃত লাল मीणा জানিয়েছেন যে প্রকল্পের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে। আগ্রহী মহিলারা তাদের নিকটতম সরকারি কার্যালয় বা অনলাইন মাধ্যমের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। প্রকল্প অনুসারে, সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম কিস্তি হিসাবে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা স্থানান্তরিত করা হবে।

মীণা আরও জানান যে ছয় মাস মূল্যায়নের পর ভালো পারফরম্যান্স করা মহিলাদের ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই মূল্যায়নের সময় মহিলার প্রকল্পের সাফল্য, বিক্রয় এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষমতা বিবেচনা করা হবে।

হাট-বাজার উন্নত করা হবে

মুখ্যমন্ত্রী মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল হাট-বাজারের উন্নয়ন। সরকার রাজ্যের গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত মহিলাদের পণ্যের বিক্রির জন্য বিশেষ হাট-বাজার উন্নত করবে। এই হাট-বাজারগুলিতে মহিলারা সরাসরি গ্রাহকদের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবে এবং তারা বেশি লাভ পাবে।

এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল মহিলারা তাদের পণ্যের জন্য একটি স্থিতিশীল বাজার খুঁজে পাবে এবং তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে। সরকারের বিশ্বাস যে এটি মহিলাদের আয় বৃদ্ধি করবে এবং তাদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে।

প্রকল্প থেকে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ

মুখ্যমন্ত্রী মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্প রাজ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই প্রকল্পের অধীনে মহিলারা তাদের দক্ষতা এবং প্রতিভার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। সরকারের উদ্দেশ্য হল মহিলারা এই সুবিধা পাবে যাতে তাদের বাইরে গিয়ে চাকরির সন্ধানে বাধ্য হতে না হয়।

মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার আরও বলেছেন যে এই প্রকল্প থেকে মহিলাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে এবং তারা তাদের পরিবারের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে যে বিহারে মহিলাদের জন্য স্থায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের সুযোগ উপলব্ধ থাকে।

মুখ্যমন্ত্রী নিজেই টুইট করে প্রকল্পের তথ্য দিয়েছেন

মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার নিজেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X (পূর্বে টুইটার) এ প্রকল্পের তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন যে তার সরকার নভেম্বর ২০০৫ থেকে নারী ক্ষমতায়নের জন্য ক্রমাগত কাজ করেছে। এখন মহিলারা কেবল বিহারের অগ্রগতিতে অবদান দেবেন না, বরং তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থাও শক্তিশালী করবেন।

তিনি আরও লিখেছেন যে এই মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পটি রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের একজন মহিলাকে তাদের পছন্দের কাজের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ।

প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগ দ্বারা করা হবে। প্রকল্পের অধীনে আবেদনকারী মহিলাদের যোগ্যতা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে। এর জন্য নগর উন্নয়ন ও আবাসন বিভাগের সহায়তাও নেওয়া হবে।

সরকারের মতে, প্রকল্পের বাস্তবায়নের ফলে মহিলাদের অবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়াও রাজ্যের ভিতরে কর্মসংস্থানের ভালো সুযোগ তৈরি হবে এবং মানুষকে বাধ্য হয়ে রাজ্যের বাইরে চাকরি খুঁজতে যেতে হবে না।

মহিলাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী লাভ

মুখ্যমন্ত্রী মহিলা কর্মসংস্থান প্রকল্পের লক্ষ্য কেবল প্রাথমিক আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়। ভালো পারফরম্যান্স করা মহিলাদের প্রকল্পর অধীনে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা এবং নির্দেশনা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে মহিলারা তাদের ব্যবসা বা কর্মসংস্থান আরও উন্নত করতে পারবে।

কর্মসংস্থান এবং নারী ক্ষমতায়নের মেলবন্ধন

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা হবে। এই পদক্ষেপ রাজ্যে নারী ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হবে।

সরকারের মতে, এই প্রকল্পর মাধ্যমে মহিলারা তাদের পরিবারের জন্য আয় উপার্জন করবে, পাশাপাশি বিহারে স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। এটি রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থায় উন্নতি আনবে এবং মহিলারা তাদের দক্ষতার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হবে।

Leave a comment