মাসে মাত্র ৫০০০ টাকা সঞ্চয় অবসরে বিপুল চমক ৩.৫ কোটি টাকা হাতে পাবেন কর্মীরা

মাসে মাত্র ৫০০০ টাকা সঞ্চয় অবসরে বিপুল চমক ৩.৫ কোটি টাকা হাতে পাবেন কর্মীরা

অবসরকালীন চিন্তা আর নয়, EPF-ই ভরসা

কর্মচারী ভবিষ্যনিধি তহবিল বা EPF (Employees’ Provident Fund) সাধারণ মধ্যবিত্ত চাকুরেদের অবসরের সুরক্ষাকবচ। এই প্রকল্পে কর্মী এবং নিয়োগকর্তা উভয়েই মূল বেতনের নির্দিষ্ট অংশ জমা করেন। কর্মীর ক্ষেত্রে এই অবদান মূল বেতনের ১২ শতাংশ, আর নিয়োগকর্তার তরফে জমা হয় প্রায় ৩.৬৭ শতাংশ। এই নিয়মিত সঞ্চয় একদিকে বিনিয়োগের শৃঙ্খলা তৈরি করে, অন্যদিকে অবসরের পর নিশ্চিত সঞ্চয়ের পাহাড় গড়ে তোলে।

শুধু সঞ্চয় নয়, সুবিধার ঝুলি ভরপুর

EPF কেবল টাকা জমার বিষয় নয়। সরকারের তরফ থেকে নির্দিষ্ট হারে সুদের সুবিধা, ভবিষ্যতের জন্য পেনশন স্কিম (EPS) এবং বিমার কভার— সবকিছুই এর সঙ্গে জড়িত। কর্মীর বেতনের ১২ শতাংশ জমা হওয়া টাকার একটি বড় অংশ EPS-এ যায়, যা পরবর্তীকালে পেনশন হিসাবে ফেরত আসে। অর্থাৎ, চাকরি শেষ হলেও আয়ের উৎস একেবারে বন্ধ হয়ে যায় না, নিয়মিত সুরক্ষার দিক থেকে EPF অনেকটাই ভরসাযোগ্য।

সুদে আসল বেড়ে কোটি টাকার সঞ্চয়

বর্তমানে EPFO কর্মচারীদের বার্ষিক ৮.২৫% সুদের সুবিধা দিচ্ছে। নিয়মিত বিনিয়োগ এবং চক্রবৃদ্ধি সুদের ফলে অবসরের সময়ে বিপুল অঙ্কে পৌঁছে যায় এই টাকা। ধরুন, কেউ মাসে মাত্র ৫০০০ টাকা জমাচ্ছেন, তাতেও অবসরের সময় অর্থ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা। কীভাবে এই জাদু সম্ভব, তার খুঁটিনাটি দেখে নিন।

হিসেবের অঙ্ক স্পষ্ট করে দেওয়া হল

ধরা যাক, একজন কর্মীর মাসিক বেতন ৬৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে মূল বেতন ৩১,৯০০ টাকা, HRA ১৫,৯৫০ টাকা এবং অন্যান্য ভাতা ১৬,১৫০ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, মূল বেতনের ১২ শতাংশ যায় কর্মীর EPF অ্যাকাউন্টে— অর্থাৎ প্রতি মাসে ৩,৮২৮ টাকা। অন্যদিকে নিয়োগকর্তা যোগ করেন মূল বেতনের ৩.৬৭ শতাংশ, যা দাঁড়ায় ১,১৭২ টাকা। সব মিলিয়ে মাসে গড়ে প্রায় ৫০০০ টাকা জমা হয় EPF-এ।

প্রতিবছরের বেতন বৃদ্ধি বদলে দেয় হিসেব

এখানে ধরা হয়েছে, কর্মীর বেতন প্রতি বছর অন্তত ১০% হারে বাড়বে। ফলে EPF-এ জমা হওয়া টাকার পরিমাণও ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে বার্ষিক ৮.২৫% সুদের সুবিধা। এইভাবে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে জমা হতে হতে অবসরের সময়ে মোট সঞ্চয় দাঁড়াবে প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা।

২৫ থেকে ৫৮ বছরের যাত্রা— সঞ্চয়ে বিপুল চমক

যদি কেউ ২৫ বছর বয়সে চাকরি শুরু করেন এবং ৫৮ বছর পর্যন্ত এই নিয়মিত অবদান বজায় রাখেন, তবে ৩৩ বছরের দীর্ঘ সময়ে তাঁর জমাকৃত অর্থ হবে প্রায় ১.৩৩ কোটি টাকা। তবে চক্রবৃদ্ধি সুদ ও বেতন বৃদ্ধির সুবিধা মিলিয়ে এই অঙ্ক আরও ফুলেফেঁপে দাঁড়াবে প্রায় ৩.৫ কোটিতে। অর্থাৎ, মাসে মাত্র ৫০০০ টাকা জমিয়ে রাখা ভবিষ্যতে দিতে পারে আর্থিক নিরাপত্তার বিশাল নিশ্চয়তা।

পেনশনও থাকবে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে

EPF-এর পাশাপাশি EPS (Employees’ Pension Scheme)-এর সুবিধা পাওয়া যায়। বর্তমানে ন্যূনতম মাসিক পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০০ টাকা। তবে চাকরির সময়কাল, বেতন কাঠামো এবং অবদানের উপর ভিত্তি করে এই অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে। ফলে অবসর নেওয়ার পরও নির্দিষ্ট আয়ের ভরসা থাকে।

ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে আজই শুরু করুন সঞ্চয়

EPF কেবলমাত্র একটি সঞ্চয় প্রকল্প নয়, এটি কর্মজীবীদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার অন্যতম হাতিয়ার। মাসে সামান্য টাকা জমিয়েই অবসরের সময়ে নিশ্চিন্ত ভবিষ্যৎ পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ, বর্তমানের ছোট ত্যাগ ভবিষ্যতে এনে দিতে পারে কোটি টাকার সম্পদ।

Leave a comment