ভারতে স্কুল শিক্ষকের সংখ্যা ১ কোটি ছাড়াল, শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাইলফলক

ভারতে স্কুল শিক্ষকের সংখ্যা ১ কোটি ছাড়াল, শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাইলফলক

দেশে প্রথমবার স্কুল শিক্ষকের সংখ্যা ১ কোটি ছাড়াল। শিক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টে ড্রপআউট হারের হ্রাস এবং জিইআর-এর (GER) বৃদ্ধি নথিভুক্ত করা হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের উন্নতি এবং শিক্ষার মানের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্ট: দেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রথমবার স্কুল শিক্ষকের সংখ্যা ১ কোটি সংখ্যা অতিক্রম করেছে। এই কৃতিত্ব অর্জিত হয়েছে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে। মন্ত্রক জানাচ্ছে যে এই পদক্ষেপ কেবল শিক্ষার মান উন্নত করতেই সাহায্য করবে না, বরং দেশজুড়ে শিক্ষার স্তরকেও আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

২০২৪-২৫ সালে শিক্ষকের সংখ্যা ১,০১,২২,৪২০

শিক্ষা মন্ত্রক বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস (UDISE+) ২০২৪-২৫ রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ১,০১,২২,৪২০-এ পৌঁছেছে। ২০২৩-২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯৮,০৭,৬০০ এবং ২০২২-২৩ সালে ছিল ৯৪,৮৩,২৯৪। এই ভাবে গত দুই বছরে শিক্ষকের সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি দেখা গেছে।

ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের উন্নতির দিকে একটি বড় পদক্ষেপ

শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের (Student-Teacher Ratio) উপর। পূর্বে অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের উপর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় শিক্ষার মান প্রভাবিত হত। এখন নতুন শিক্ষক নিয়োগের ফলে এই ব্যবধান কমবে এবং শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত মনোযোগ পাবে। মন্ত্রক জানাচ্ছে যে এই প্রচেষ্টা শিক্ষার মানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামীণ এবং শহুরে অঞ্চলের মধ্যেকার বৈষম্যও কমাবে।

ড্রপআউট হারে বড় পতন

রিপোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল স্কুল ছেড়ে যাওয়া শিশুদের সংখ্যায় ধারাবাহিক হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।

  • প্রস্তুতি স্তরে: ড্রপআউট হার ৩.৭% থেকে কমে ২.৩%-এ এসে দাঁড়িয়েছে।
  • মধ্যম স্তরে: এই হার ৫.২% থেকে কমে ৩.৫%-এ হয়েছে।
  • উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে: এখানে সবচেয়ে বেশি উন্নতি দেখা গেছে, যেখানে এই হার ১০.৯% থেকে কমে ৮.২%-এ পৌঁছেছে।

এই পরিসংখ্যানগুলি দেখাচ্ছে যে শিক্ষা মন্ত্রকের নীতি ও উদ্যোগগুলি শিশুদের স্কুলে ধরে রাখতে সফল হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার হারে উন্নতি

রিপোর্টে শিক্ষার্থীদের স্কুল ধরে রাখার হার অর্থাৎ Retention Rate-এর উন্নতির তথ্যও দেওয়া হয়েছে।

  • ভিত্তিগত স্তরে: ৯৮% থেকে বেড়ে ৯৮.৯%
  • প্রস্তুতি স্তরে: ৮৫.৪% থেকে বেড়ে ৯২.৪%
  • মধ্যম স্তরে: ৭৮% থেকে বেড়ে ৮২.৮%
  • উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে: ৪৫.৬% থেকে বেড়ে ৪৭.২%

এই উন্নতি নির্দেশ করে যে সরকারের নীতিগুলি শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে দূরে না রাখতে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।

মোট নথিভুক্তির অনুপাতে (GER) বৃদ্ধি

মোট নথিভুক্তির অনুপাত অর্থাৎ Gross Enrolment Ratio (GER) শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে ২০২৪-২৫ সালে এতেও উন্নতি হয়েছে।

  • মধ্যম স্তরে: ৮৯.৫% থেকে বেড়ে ৯০.৩%
  • উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে: ৬৬.৫% থেকে বেড়ে ৬৮.৫%

এটি নির্দেশ করে যে ক্রমশ বেশি সংখ্যক শিশু এখন স্কুলে নথিভুক্ত হচ্ছে।

ট্রানজিশন হারে উন্নতি

ট্রানজিশন রেট অর্থাৎ এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের হারেও বৃদ্ধি হয়েছে।

  • ভিত্তিগত স্তর থেকে প্রস্তুতি স্তরে: ৯৮.৬%
  • প্রস্তুতি স্তর থেকে মধ্যম স্তরে: ৯২.২%
  • মধ্যম স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে: ৮৬.৬%

এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে শিক্ষার্থীরা এখন প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করছে।

গ্রামীণ ও শহুরে শিক্ষার মধ্যে ব্যবধান কমানোর উদ্যোগ

শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল গ্রামীণ ও শহুরে শিক্ষার মধ্যেকার ফারাক কমানো। গ্রামীণ অঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের সমস্যা ছিল। এখন নতুন শিক্ষক নিয়োগের ফলে এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং গ্রামীণ শিক্ষার্থীরাও গুণগত মানের শিক্ষা পাবে।

ডিজিটাল শিক্ষাতেও গতি আসবে

শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিজিটাল শিক্ষাতেও নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনেক রাজ্যে স্মার্ট ক্লাসরুম এবং ডিজিটাল শিক্ষাকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। নতুন শিক্ষকরা এই প্রযুক্তিগুলিকে আরও ভালোভাবে প্রয়োগ করতে সাহায্য করবেন।

Leave a comment