নুক্কি মৃত্যুরহস্য: যৌতুক, পারিবারিক বিদ্বেষ, না অন্য কিছু?

নুক্কি মৃত্যুরহস্য: যৌতুক, পারিবারিক বিদ্বেষ, না অন্য কিছু?

নুক্কির মৃত্যুর তদন্ত চলছে গ্রেটার নয়ডায়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, মেডিকেল রিপোর্ট এবং পরিবারের বয়ান-এর ভিত্তিতে সত্যতা উদ্ঘাটনে রত। যৌতুক এবং খুনের বিভিন্ন দিক সামনে এসেছে।

Nikki Case: গ্রেটার নয়ডায় নুক্কির মৃত্যুর ঘটনা প্রতিদিন নতুন মোড় নিচ্ছে। প্রতিটি নতুন প্রমাণের সাথে সাথে মামলাটি আরও জটিল হচ্ছে। মেডিকেল রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ছবিগুলি প্রতিবারই নতুন গল্প বলছে। আপাতত প্রশ্ন হল, এই ঘটনাটি যৌতুক, হত্যা নাকি আত্মহত্যার সাথে জড়িত। প্রতিটি নতুন তথ্য তদন্তকারীদের ঘটনাটির গভীরে যেতে বাধ্য করছে।

ছবিগুলির সত্যতা এবং বোনের বয়ান

গ্রেটার নয়ডা থেকে দুটি ছবি সামনে এসেছিল, যা ঘটনাটির গল্প নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছিল। প্রথম ছবিতে বলা হয়েছিল যে নুক্কিকে তার স্বামী বিপিন এবং শাশুড়ি দয়া মারধর করছে। দ্বিতীয় ছবিতে নুক্কিকে আগুনের শিখায় আবৃত সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখা গেছে। এই ছবিগুলির ভিত্তিতে তার বোন কাঞ্চন দাবি করেন যে নুক্কিকে প্রথমে মারধর করা হয়েছিল এবং তারপরে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। কাঞ্চন তার ছেলের মাধ্যমেও জানায় যে বিপিন লাইটার দিয়ে আগুন লাগানোর কাজটি করেছে। কিন্তু পরে এই ছবি এবং বয়ানের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।

মৃত্যুর সময়রেখা এবং হাসপাতালের রিপোর্ট

২১শে আগস্ট সন্ধ্যায় প্রায় সাড়ে পাঁচটায় নুক্কি ঝলসে যায়। আধ ঘন্টা পরে তাকে ফোর্টিস হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গাড়িতে তার সাথে শাশুড়ি দয়া, শ্বশুর সতবেীর এবং প্রতিবেশী দেবেন্দ্র উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালে পৌঁছে নুক্কি জানায় যে সিলিন্ডার ফেটে সে ঝলসে গেছে। এই বয়ানটি এমএলসি (Medico-Legal Case) ডায়েরিতে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এমএলসি-তে এও লেখা হয়েছিল যে নুক্কির অবস্থা গুরুতর ছিল এবং তাকে ফোর্টিস হাসপাতাল থেকে সফদরজং হাসপাতাল, দিল্লিতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পথেই নুক্কির মৃত্যু হয়।

সিলিন্ডার ফেটে যাওয়ার গল্পের উপর সন্দেহ

পুলিশ নুক্কির বাড়ি তদন্ত করে, কিন্তু সিলিন্ডার ফেটে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পায়নি। বাড়িতে কোনও বিস্ফোরণ হয়নি, আশেপাশের জিনিসপত্র ভাঙেনি এবং প্রতিবেশীরা কোনও বিস্ফোরণের শব্দ শোনেনি। এতে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে সিলিন্ডার ফেটে যাওয়ার গল্পটি সঠিক নাও হতে পারে। পুলিশ এখন এটা জানার চেষ্টা করছে যে নুক্কি সত্যিই এই বয়ান দিয়েছিল নাকি চাপের মুখে এটা বলেছিল।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং পরিবারের উপস্থিতি

নুক্কির মৃত্যুর পরের দিন ২২শে আগস্ট তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া গ্রেটার নয়ডায় সম্পন্ন হয়। আশ্চর্যের বিষয় হল, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উভয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নুক্কির শ্বশুর নিজে চিতায় আগুন দেন। প্রশ্ন ওঠে যে, যদি নুক্কিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়ে থাকে এবং তার বোন কাঞ্চন এই ঘটনার সাক্ষী হয়, তবে সে কেন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় চুপ ছিল?

কাঞ্চনের এফআইআর এবং নতুন অভিযোগ

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কয়েক ঘন্টা পর কাঞ্চন পুলিশ স্টেশনে পৌঁছায় এবং এফআইআর দায়ের করে। এতে সে অভিযোগ করে যে নুক্কির মৃত্যু ससुराल वालों দ্বারা দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে করা হয়েছে। সে বলেছিল যে স্বামী বিপিন, শাশুড়ি দয়া এবং শ্বশুর সতবেীর ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। এই এফআইআর মামলাটির মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

নতুন ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজ

২১শে আগস্ট সন্ধ্যার একটি অন্য ভিডিও সামনে এসেছে। এতে দেখা যাচ্ছে যে বিপিন সেই সময় বাড়ির বাইরে একটি বেকারির দোকানে দাঁড়িয়ে ছিল এবং পরে রাস্তা পার হয়। এই ফুটেজটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি দেখে পুলিশ এটা জানার চেষ্টা করছে যে বিপিন সেই সময় বাড়ির ভিতরে উপস্থিত ছিল কিনা।

পুরানো ছবিগুলির রহস্যভেদ

প্রথম ছবিটি, যেখানে নুক্কিকে মারধর করতে দেখা গিয়েছিল, সেটি আসলে ফেব্রুয়ারীর, অর্থাৎ ঘটনার ছয় মাস আগের। দ্বিতীয় ছবিতে আগুনের শিখার মধ্যে নুক্কিকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখা গেছে। এর সাথে কাঞ্চনের আওয়াজও আছে, যেখানে সে বলছে, "বোন, তুই কী করলি।" প্রশ্ন ওঠে যে নুক্কি কি নিজে আগুন লাগিয়েছিল নাকি বোনের বয়ান চাপের মুখে ছিল?

পরিবার এবং যৌতুকের পটভূমি

নুক্কি এবং কাঞ্চন উভয়ই আপন বোন। তাদের দুজনের বিয়ে দুই ভাইয়ের সাথে হয়েছে। তাদের বাবা भिखारी সিং তার মেয়েদের বিয়েতে প্রচুর খরচ করেছিলেন। দামি গাড়ি, বুলেট এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিস যৌতুক হিসাবে দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের পর উভয় বোনই ससुराल-এ যৌতুকের জন্য ক্রমাগত চাপ ও নির্যাতনের শিকার হন। স্বামী এবং শাশুড়ি প্রায়শই তাদের কাছ থেকে টাকা এবং সম্পত্তির দাবি করত।

গত নয় বছরের সহনশীলতা

নুক্কি এবং কাঞ্চন গত নয় বছর ধরে যৌতুকের নামে নির্যাতিত হয়ে আসছিল। বিয়ের পর তারা নিজেদের কষ্ট নিজেরা সহ্য করছিল, যাতে বাবা-মাকে কষ্ট না দেওয়া হয়। নুক্কির মৃত্যু যে কোনো রূপে হয়ে থাকুক না কেন, এটা স্পষ্ট যে তার ससुराल वालों-এর লোভ এবং যৌতুকের চাহিদা এর পেছনে একটি বড় কারণ ছিল।

Leave a comment