আমেরিকা ভারত থেকে আসা পণ্যের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছে। মার্কিন অর্থনীতিবিদ রিচার্ড উলফ এটিকে ভুল বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে এই পদক্ষেপ ব্রিকস দেশগুলোর শক্তি বাড়াবে এবং আমেরিকার অর্থনৈতিক ক্ষতি করবে।
ভারত-মার্কিন সম্পর্ক: আমেরিকা এবং ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আবারও सुर्खियोंয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত থেকে আসা অনেক পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। এই শুল্ক বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরু করেছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদরাও। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল ভারতের জন্যই নয়, আমেরিকার জন্যও ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।
মার্কিন অর্থনীতিবিদ রিচার্ড উলফ ট্রাম্পকে আক্রমণ করেছেন
মার্কিন অর্থনীতিবিদ রিচার্ড উলফ ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় ভুল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন যে আমেরিকা ভারতের মতো একটি বড় গণতান্ত্রিক দেশের উপর কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছে এবং এই পদক্ষেপ তার জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে। রিচার্ড উলফ উদাহরণ দিয়ে বলেন যে এটি এমন যে একটি ইঁদুর একটি হাতিকে ঘুষি মারার চেষ্টা করছে।
উলফ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে ভারতের উপর শুল্ক আরোপ করে আমেরিকা দেখাতে চায় যে এটি বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর দেশ। কিন্তু বাস্তবে, এই নীতি আমেরিকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে দুর্বল করছে।
ভারতের অবস্থান ব্রিকসকে শক্তিশালী করবে
রিচার্ড উলফ তার পডকাস্ট এবং মিডিয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে যদি আমেরিকা ভারতের জন্য তার বাজার বন্ধ করে দেয়, তবে ভারত বিকল্প খুঁজতে দেরি করবে না। তিনি রাশিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলেন যে রাশিয়াও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার পর নতুন বাজার খুঁজে নিয়েছে। একইভাবে, ভারত আমেরিকান বাজারের পরিবর্তে ব্রিকস এবং অন্যান্য দেশে তার পণ্যের রপ্তানি বাড়াবে।
তিনি বলেন যে ব্রিকস দেশগুলি—ভারত, রাশিয়া, চীন, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা—বৈশ্বিক উৎপাদনে প্রায় ৩৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব অর্জন করেছে। অন্যদিকে, জি৭ দেশগুলোর অংশীদারিত্ব প্রায় ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এমতাবস্থায়, ভারতের উপর শুল্ক আরোপ করে আমেরিকা পরোক্ষভাবে ব্রিকস দেশগুলোর শক্তিই বাড়াচ্ছে।
শুল্কের পেছনে রাশিয়ার ইস্যু
উল্লেখ্য যে ট্রাম্প প্রশাসন এই শুল্ক রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আরোপ করেছে। ট্রাম্পের অভিযোগ যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করছে। এই কারণে আমেরিকা বেশিরভাগ ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।
আমেরিকার মতে, রাশিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ভারতের মতো দেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা জরুরি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই পদক্ষেপে ভারত বিকল্প খুঁজে নেবে, কিন্তু মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য এটি একটি ক্ষতিকর চুক্তি হতে পারে।
ভারতের অর্থনীতিতে কী প্রভাব
ভারত আজ বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। ভারতের বাজার কেবল বিশালই নয়, বরং দ্রুত উদীয়মান মধ্যবিত্ত এবং বৃহৎ শিল্প বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায়, ভারতের উপর শুল্ক আরোপ করে আমেরিকা তার নিজের বাণিজ্যিক স্বার্থে আঘাত করছে।
ভারতের হাতে রয়েছে অনেক বিকল্প
ভারতের সাথে ব্রিকস দেশগুলোর সাথে পূর্ব থেকেই শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে মিলে ভারত কেবল বাণিজ্যই বাড়াচ্ছে না, বরং বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামোর উপরও কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে যদি আমেরিকা ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে ভারত ব্রিকস এবং এশীয় দেশগুলোর সাথে তার বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করবে।
এছাড়াও, ভারত বিগত কয়েক বছরে আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা এবং এশিয়ার বাজারেও তার উপস্থিতি বাড়িয়েছে। এমতাবস্থায়, আমেরিকার এই শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ ভারতকে তেমন প্রভাবিত করবে না।
মার্কিন অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য ঝুঁকি
রিচার্ড উলফের মতে, আমেরিকা ভুলে যাচ্ছে যে এটি আর একা অর্থনৈতিক পরাশক্তি নয়। চীন, ভারত এবং ব্রিকস দেশগুলো মিলে আমেরিকার বিপরীতে একটি বিকল্প অর্থনৈতিক মেরু তৈরি করছে। যদি আমেরিকা এই ধরনের শুল্ক আরোপ করতে থাকে, তবে তার ঐতিহ্যবাহী সহযোগীরাও নতুন বিকল্প খুঁজতে শুরু করবে।
তিনি বলেন যে আগামী বছরগুলোতে আমেরিকাকে বুঝতে হবে যে বিশ্ব বাণিজ্যে একতরফা সিদ্ধান্ত দীর্ঘকাল ধরে চলতে পারে না। ভারতের মতো দেশগুলো তাদের নিজস্ব শর্তে বাণিজ্য করতে জানে এবং তারা কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
ট্রাম্পের নীতির উপর প্রশ্ন উঠছে
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে মার্কিন মিডিয়া এবং অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ইতিমধ্যেই বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প আগে চীনের উপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ক্ষতি হয়েছিল। এখন ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে তারা একই ভুল পুনরাবৃত্তি করছে। রিচার্ড উলফের মতে, ভারতের উপর শুল্ক আরোপ করে আমেরিকা তার নিজস্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্ষতি করছে। বিশেষ করে আইটি, ফার্মা এবং টেক্সটাইল সেক্টরে ভারত আমেরিকার একটি বড় সরবরাহকারী।