বিহারের दरभंगा-তে প্রাথমিক বিদ্যালয় মধপুর টোলার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাজেশ কুমার ঠাকুরকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাঙ্গলৌ ওয়ার্ড নম্বর-৬-এ গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এই হত্যার সম্ভাবনার উপর তদন্ত করছে।
দরভাঙ্গা: বিহারের दरभंगा জেলায় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট, ২০২৫) সন্ধ্যায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মধপুর টোলা সোনপুর স্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং বিএলও রাজেশ কুমার ঠাকুরকে গাঙ্গলৌ ওয়ার্ড নম্বর-৬-এর কাছে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসার সময় তাঁর মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, খুনের স্থানটি স্কুল থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ছিল। রাজেশ কুমারের বুকে ও পেটে গুলি লেগেছিল। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে এবং অপরাধীদের সনাক্ত করার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
রাজেশ কুমার ছিলেন মধুবনী জেলার
রাজেশ কুমার ঠাকুর মূলত মধুবনী জেলার সুগাপট্টি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বিয়ে হয়নি। ২-৩ বছর আগে बीपीएससी পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিলেন। কিছু সময় পর তাঁর বদলি ফুলপাড়া স্থিত বিদ্যালয়ে হয়েছিল।
জানা যায়, শুক্রবারই তিনি নতুন বিদ্যালয়ে যোগদান করতে চলেছিলেন। সহকর্মী শিক্ষক রামচন্দ্র মাহাতো বলেন যে রাজেশ কুমার খুবই মিশুক এবং শান্ত স্বভাবের ছিলেন। এই খুনের খবরে তাঁর সহকর্মী এবং ছাত্ররাও গভীর শোকাহত।
প্রেম সংক্রান্ত বিবাদ কি খুনের কারণ?
পরিবার ও পুলিশের সূত্র অনুসারে, খুনের পিছনে প্রেমের সম্পর্ককে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মৃত ব্যক্তির ভাই অভিযোগ করেছেন যে রাজেশ কুমারের সঙ্গে বিদ্যালয়ের একজন মহিলা শিক্ষিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের কারণে শিক্ষিকার স্বামী আগে হুমকি দিয়েছিলেন।
পুলিশ এই দিকটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং মামলার যেকোনো সম্ভাব্য অভিযুক্তকে সনাক্ত করার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশের মতে, প্রেমের সম্পর্কের কারণে সৃষ্ট বিবাদই এই ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দিয়েছে।
খুনের ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপ শুরু
বেনীপুর এসডিপিও আস্তোষ কুমার বলেছেন যে মামলার তদন্ত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। অপরাধীদের সনাক্তকরণ এবং গ্রেফতারের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে বয়ান নিতে ব্যস্ত।
স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। রাজেশ কুমারের হত্যাকাণ্ড এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং পুলিশ শীঘ্রই ঘটনার কিনারা করার আশ্বাস দিচ্ছে।
শিক্ষকের হত্যাকাণ্ডে সমাজে আতঙ্ক
রাজেশ কুমার ঠাকুরের হত্যাকাণ্ড কেবল তাঁর পরিবারকে গভীর শোকই দেয়নি, বরং সমগ্র শিক্ষা জগৎ এবং স্থানীয় সমাজকেও নাড়া দিয়েছে। শিক্ষক ও গ্রামবাসীরা এই খুনের ঘটনায় ভীত এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছেন।
শিক্ষা জগতে এই ঘটনা উদ্বেগের কারণ কারণ এটি সুরক্ষা এবং সামাজিক কাঠামোর উপর প্রশ্ন তোলে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে শীঘ্রই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।