দিল্লি হাইকোর্ট সমীর ওয়াংখেড়ের পদোন্নতির আবেদন মঞ্জুর, কেন্দ্রের আবেদন খারিজ

দিল্লি হাইকোর্ট সমীর ওয়াংখেড়ের পদোন্নতির আবেদন মঞ্জুর, কেন্দ্রের আবেদন খারিজ

দিল্লি হাইকোর্ট আইআরএস আধিকারিক সমীর ওয়াংখেড়ের পদোন্নতির ওপর কেন্দ্রের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালত বলেছে যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় তদন্ত মুলতুবি নেই এবং কেন্দ্র সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই আদেশ কার্যকর করতে হবে।

দিল্লি: দিল্লি হাইকোর্ট আইআরএস আধিকারিক সমীর ওয়াংখেড় সংক্রান্ত একটি বড় রায় ঘোষণা করেছে। আদালত কেন্দ্রের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে, যাতে ওয়াংখেড়কে পদোন্নতি দেওয়ার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল। এই রায় ওয়াংখেড়ের কর্মজীবনের জন্য একটি বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে এবং একইসাথে এটি কেন্দ্রের জন্য একটি বড় ধাক্কাও প্রমাণিত হয়েছে।

হাইকোর্ট কেন্দ্রের যুক্তি মানেনি

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নবীন চাওলা এবং বিচারপতি মধু জৈনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় তদন্ত মুলতুবি নেই। আদালত বলেছে যে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় স্তরে কোনও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ বা অভিযোগপত্র মুলতুবি না থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর পদোন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করা যেতে পারে না।

সিবিআই এবং ইডি-র তদন্তের ওপরও আদালতের মন্তব্য

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে সিবিআই এবং ইডি মামলা দায়ের করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগও এসেছিল যে তিনি চাকরি পাওয়ার জন্য জাল জাতিগত শংসাপত্র ব্যবহার করেছেন। কিন্তু আদালত স্পষ্ট করেছে যে কোনও তদন্ত বা অভিযোগের অর্থ এই নয় যে ব্যক্তিকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা উচিত। আদালত বলেছে যে যতক্ষণ পর্যন্ত কোনও তদন্তের ফলাফল বিভাগীয় স্তরে কোনও পদক্ষেপ হিসাবে সামনে না আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি পদোন্নতি স্থগিত করার ভিত্তি হতে পারে না।

ক্যাট-এর আদেশ বহাল, চার সপ্তাহের মধ্যে পালনের নির্দেশ

কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (CAT) ইতিমধ্যেই ওয়াংখেড়ের পদোন্নতির পক্ষে রায় দিয়েছিল। ক্যাট বলেছিল যে সরকার ওয়াংখেড়ের পদোন্নতি সম্পর্কিত সিল করা খাম খুলুক এবং যদি ইউপিএসসি তাঁর নাম সুপারিশ করে থাকে, তবে তাঁকে ১ জানুয়ারি ২০২১ থেকে অতিরিক্ত কমিশনারের পদে পদোন্নতি দেওয়া হোক। দিল্লি হাইকোর্ট এখন এই আদেশ বহাল রেখেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে তা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে।

কেন কেন্দ্রের আবেদন খারিজ হলো

কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য ছিল যে ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে অনেক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পদোন্নতি হওয়া উচিত নয়। কিন্তু আদালত স্পষ্ট করেছে যে কেবল অভিযোগ বা তদন্তের ভিত্তিতে কাউকে পদোন্নতি থেকে আটকে রাখা যায় না। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট বিভাগীয় তদন্ত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যেতে পারে না।

ওয়াংখেড়ের কর্মজীবন

সমীর ওয়াংখেড়ের নাম বহুবার শিরোনামে এসেছে। এনসিবি-র জোনাল ডিরেক্টর হিসেবে তিনি মুম্বাইতে মাদক মামলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। আরিয়ান খান মাদক মামলার সময় তিনি বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। এই রায়ের পর তাঁর কর্মজীবন আবারও সঠিক পথে ফিরতে পারে।

কেন্দ্রের জন্য ধাক্কা, ওয়াংখেড়ের জন্য স্বস্তি

কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য এই রায় একটি ধাক্কা, কারণ তারা পদোন্নতি স্থগিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আদালত স্পষ্ট করেছে যে কেবল তদন্তের ভিত্তিতে কারো পদোন্নতি স্থগিত করা উচিত নয়। ওয়াংখেড়ের জন্য এই রায় কর্মজীবনে এক বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে, কারণ এখন তিনি অতিরিক্ত কমিশনারের পদে পদোন্নতি পেতে পারেন।

Leave a comment