আমেরিকা ভারতকে 'মৃত অর্থনীতি' বলে অভিহিত করেছে। অস্ট্রেলিয়া এর বিরোধিতা করে ভারতকে সুযোগে পূর্ণ দেশ বলে আখ্যায়িত করেছে। ডন ফ্যারেল বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক শক্তিশালী হবে।
মৃত অর্থনীতি: আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতকে 'মৃত অর্থনীতি' বলে সমালোচনা করেছিলেন। এই মন্তব্যের পরপরই অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রী ডন ফ্যারেল ভারতের সমর্থনে একটি স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে অস্ট্রেলিয়া ভারতকে "চমৎকার সুযোগে" পূর্ণ দেশ বলে মনে করে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান: মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্যে বিশ্বাস
ডন ফ্যারেল বলেন যে অস্ট্রেলিয়া সর্বদা মুক্ত ও ন্যায্য বাণিজ্যের সমর্থক। শুল্ক ভারতের উপর আরোপিত হোক বা অস্ট্রেলিয়ার উপর, আমরা কোনো প্রকার সংরক্ষণবাদের সমর্থন করি না। ফ্যারেল বলেন যে সমৃদ্ধির সেরা উপায় হল খোলা, ন্যায্য ও মুক্ত বাণিজ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সংরক্ষণবাদ কোনো দেশের জন্য লাভজনক নয়।
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে উত্তেজনার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সমর্থন
ফ্যারেল আরও স্পষ্ট করেছেন যে অস্ট্রেলিয়া ভারতের সাথে গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। তিনি বলেন যে অস্ট্রেলিয়া ভারতে বিনিয়োগ বাড়াতে ইচ্ছুক। ভারত-এর মতো সমৃদ্ধ গণতন্ত্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন যে ভারতে অপরিসীম সুযোগ রয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়া এই সুযোগের অংশীদার হতে চায়।
অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা
বাণিজ্য মন্ত্রী আরও বলেন যে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিশ্বের বৃহত্তম বা দ্বিতীয় বৃহত্তম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বিরল মৃত্তিকা উপাদানের ভান্ডার রয়েছে। নেট জিরো নির্গমনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই খনিজগুলির প্রয়োজন হবে। অস্ট্রেলিয়া ভারতের মানুষের সাথে এই সম্পদ এবং আনন্দ ভাগ করে নিতে চায়। এছাড়াও, দুই দেশের মধ্যে সরবরাহ শৃঙ্খল (supply chain) উন্নত করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া
ডন ফ্যারেলের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন ট্রাম্প ভারতকে "মৃত অর্থনীতি" বলেছিলেন। তার এই মন্তব্য বাণিজ্য এবং বিশ্ব রাজনীতিতে বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছিল। অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী কেবল এটি প্রত্যাখ্যান করেননি, বরং ভারতকে "ক্রমবর্ধমান সুযোগের দেশ" বলে অভিহিত করেছেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন।