ভারতের জিডিপি এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ৭.৮% বৃদ্ধি নথিভুক্ত করেছে, যা পাঁচ ত্রৈমাসিকের সর্বোচ্চ স্তর। প্রধানত কৃষি ও উৎপাদন খাতের শক্তিশালী পারদর্শিতার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী बनी रही।
Indias GDP: ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ৭.৮% ছিল, যা গত পাঁচ ত্রৈমাসিকের মধ্যে সর্বোচ্চ। জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাতে ৩.৭% এবং উৎপাদন খাতে ৭.৭% বৃদ্ধি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত শুল্ক সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি চমৎকার পারদর্শিতা দেখিয়ে বিশ্বমানের সঙ্গে নিজেদের শক্তিশালী প্রমাণ করেছে।
কৃষি খাতের অবদান
জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের (NSO) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন ২০২৫ ত্রৈমাসিকে কৃষি খাতে ৩.৭% বৃদ্ধি নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের এই ত্রৈমাসিকে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ১.৫%। এই বৃদ্ধি গ্রামীণ চাহিদা ও শস্য উৎপাদন উভয়কেই উৎসাহিত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো मानसून পরিস্থিতি ও সরকারি প্রকল্পগুলির প্রভাবও কৃষি খাতের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
উৎপাদন ও শিল্প খাত
উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধির হারও সামান্য বেড়ে ৭.৭% হয়েছে। গত বছরের এই ত্রৈমাসিকে এই হার ছিল ৭.৬%। এই খাতে উন্নতি ইঙ্গিত দেয় যে ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা ও শিল্প কার্যকলাপ শক্তিশালী রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন খাতের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি দেশের রপ্তানি সম্ভাবনাকেও উন্নত করবে।
পরিষেবা খাতের অবদান
পরিষেবা খাতও জিডিপি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আর্থিক পরিষেবা, আইটি এবং টেলিকমে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এই ক্ষেত্রগুলিতে ক্রমাগত বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বৃদ্ধি হয়েছে। পরিষেবা খাতের শক্তিশালী অর্থনীতি দেশের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির হারে অবদান রেখেছে।
ভারত এখন বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এপ্রিল-জুন ২০২৫-এ চীনের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৫.২%। এর তুলনায় ভারতের বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। এটি আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি ও বিনিয়োগ আকর্ষণকে তুলে ধরে।
ট্রাম্প শুল্কের বাজারের উপর প্রভাব
আমেরিকা কর্তৃক ভারতের উপর আরোপিত শুল্ক বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তবে, ভারতের জিডিপি বৃদ্ধিতে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। কৃষি ও উৎপাদন খাতে শক্তিশালী চাহিদা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের অগ্রগতি শুল্কের প্রভাবকে কমিয়ে দিয়েছে। এভাবে ভারত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চাপ সত্ত্বেও শক্তিশালী পারদর্শিতা দেখিয়েছে।
পূর্ববর্তী রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা
তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সর্বোচ্চ জিডিপি বৃদ্ধি ছিল ২০২৪ সালের জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে ৮.৪%। প্রথম ত্রৈমাসিকের ৭.৮% বৃদ্ধি সমস্ত অনুমানকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে অর্থনৈতিক সংস্কার ও বিনিয়োগ প্রণোদনাগুলি প্রবৃদ্ধির হার স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে।
বিনিয়োগকারী ও বাজারের উপর প্রভাব
জিডিপি বৃদ্ধির ইতিবাচক খবরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে। শেয়ার বাজারেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। দেশীয় শিল্প ও পরিষেবা খাতের শক্তিশালীতা বিনিয়োগ আকর্ষণকে আরও বাড়িয়েছে। এই বৃদ্ধির কারণে ভারতীয় অর্থনীতি বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তার স্থিতিশীলতার বার্তা দিয়েছে।