থিকথিক করছে মানুষ! কবে শেষ হবে এই হয়রানি?
কখনও এক সময়ে কলকাতা মেট্রো ছিল স্বস্তির প্রতীক। গরমে ঠান্ডা এসির ভেতর নির্ভরযোগ্য যাতায়াত, সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছনো—এসবই ছিল নিত্যযাত্রীদের ভরসার জায়গা। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সেই মেট্রোই হয়ে উঠেছে চরম দুর্ভোগের নাম। বনগাঁ লোকালের মতো ভিড়, এসক্যালেটর ও সিঁড়িতে থিকথিকে মানুষের চাপ, বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রেন লেট—এই সব মিলিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে যাত্রীদের।
নতুন রুটে মেট্রো, পুরনো রুটে ভোগান্তি
দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত রুটে চলা মেট্রো এখন যাত্রীদের কাছে আতঙ্কের সমান। নিত্যযাত্রী অনিরুদ্ধ রায়ের বক্তব্য, আগে মেট্রোতে চড়ে আরাম ছিল। এখন বনগাঁ লোকালের মতো ঠাসাঠাসি। মেট্রো সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া কোনও উপায় নেই।প্রকৃতপক্ষে, ৩০ জুলাই কবি সুভাষ মেট্রো বন্ধ হওয়ার পরে পুরো পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নতুন রুট চালু হলেও পর্যাপ্ত রেক না থাকায় যাত্রীরা পড়ছেন মারাত্মক সমস্যায়।
ট্রেনের দরজায় যান্ত্রিক ত্রুটি
শোভাবাজার, দমদম বা গিরিশপার্কে নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ ভিড়। এমনকি একাধিক রেকের দরজা মাঝেমধ্যেই বন্ধ হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শোভাবাজারে ভিড়ের চাপেই মেট্রোর দরজা আটকে যায়। প্রায় আধঘণ্টা বন্ধ থাকে পরিষেবা।নিত্যযাত্রী নিশিকান্ত পাল বললেন, টানা দু’খানা ট্রেন বাদ দিতে হয়েছে। আগে যদি বাড়তি ব্যবস্থা নিত তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না। নতুন রুট চালু হয়েছে ভালো কথা, কিন্তু গাড়ি বাড়ানো দরকার ছিল।
লেট, এসক্যালেটর খারাপ আর শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ
শুধু ট্রেনের ভেতরের ভিড় নয়, সমস্যা শুরু হচ্ছে স্টেশনে ঢোকার সময় থেকেই। দমদম, চাঁদনি, সেন্ট্রাল থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত বহু এসক্যালেটর অচল। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সিঁড়ি ভর করে হাঁটতে হচ্ছে। ভিড়ের কারণে মাটির নিচে শ্বাসকষ্টের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।নিত্যযাত্রী সোমশুভ্র চ্যাটার্জি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দরজা বন্ধ হচ্ছে না, ভিড় সামলাতে পারছে না। এসক্যালেটর খারাপ। ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকেও মেট্রো ধরতে পারিনি।অন্য এক যাত্রী দীপায়ন পাল বললেন, “অর্ধঘণ্টা ধরে ঢুকতে পারছি না। এত ভিড় যে জামার বোতাম ছিঁড়ে গেছে এক মহিলার। মেট্রো মানে বনগাঁ লোকাল বানিয়ে দিয়েছে।
কুলিং সিস্টেম বিকল, যাত্রীদের অসুবিধা দ্বিগুণ
মেট্রোর ১৫টি কুলিং সিস্টেমের একাধিকটি বিকল হওয়ায় তীব্র গরমে যাত্রীদের অসহ্য পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। গভীর মাটির নিচের স্টেশনে বাতাস চলাচল না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।রঞ্জিত দেবনাথ বলেন, “নতুন রুট ভালো কথা, কিন্তু যাত্রী চাপ সামলানোর মতো ব্যবস্থা মেট্রো রেলের ছিল না। তাই প্রতিদিনের যাত্রা ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, দুর্গাপুজোর আগের সময়ে ভিড় স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটি দূর করার কাজ চলছে। তাদের দাবি, দ্রুতই এসক্যালেটর ও ট্রেনের সমস্যাগুলি মেরামত করা হবে।
সারসংক্ষেপ
কলকাতা মেট্রো শহরের প্রাণ, কিন্তু নতুন রুট চালুর পরে পুরনো রুটে যাত্রী দুর্ভোগ তুঙ্গে। দরজা আটকে যাওয়া, ট্রেন লেট, এসক্যালেটর খারাপ হওয়া আর ভিড় সামলাতে না পারার কারণে নিত্যযাত্রীদের জীবন প্রতিদিনই বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে। প্রশ্ন একটাই—কবে শেষ হবে মেট্রোর এই হয়রানি?