মধ্যপ্রদেশের ভিন্দে বিজেপি বিধায়ক নরেন্দ্র সিং কুশবাহ সারের বিতরণ নিয়ে জেলাশাসক সঞ্জীব শ্রীবাস্তবের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন। আইএস অ্যাসোসিয়েশন বিধায়কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
ভিন্দ: মধ্যপ্রদেশের ভিন্দ জেলায় বুধবার এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিজেপি বিধায়ক নরেন্দ্র সিং কুশবাহ এবং জেলার জেলাশাসক সঞ্জীব শ্রীবাস্তবের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ এবং হাত তোলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনাটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উভয় স্তরেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিধায়ক তাঁর সমর্থকদের নিয়ে জেলাশাসকের বাড়িতে যান এবং সেখানে স্লোগান ও হাঙ্গামার মধ্যে দুজনের মধ্যে তীব্র উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। বিধায়ক জেলাশাসককে "তুমি সবচেয়ে বড় চোর" বলে হাত তোলার চেষ্টা করেন, কিন্তু সেখানে উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিধায়ক জেলাশাসকের বাড়িতে ঢুকে বিরোধ করেন
সূত্রানুসারে, বিরোধ তখন বাড়ে যখন বিধায়ক তাঁর সমর্থকদের নিয়ে জেলাশাসকের বাড়িতে পৌঁছান। দরজাতেই দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয় এবং জেলাশাসক বাড়ির ভেতরে যেতে থাকেন। এরপর বিধায়ক এবং তাঁর সমর্থকরাও জেলাশাসকের বাড়িতে ঢুকে পড়েন।
বিধায়কের সমর্থকরা জেলাশাসকের বাড়ির বাইরে ব্যাপক স্লোগান ও হাঙ্গামা করেন। এই সময় সমর্থকরা ভিডিও বানাতে শুরু করলে জেলাশাসক তাতে বাধা দেন। এর প্রতিবাদে সমর্থকরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং "তোমার সীমা জানো না" এমন হুমকিও দেন। এই সম্পূর্ণ ঘটনাটি জেলাশাসক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
সার বিতরণ নিয়ে বিরোধ বাড়ে
এই বিরোধের মূল কারণ হিসেবে সারের অভাবকে তুলে ধরা হয়েছে। বিধায়ক অভিযোগ করেছেন যে জেলায় কৃষকদের সমানভাবে সার দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন যে কৃষকরা দিনরাত লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত সার পাচ্ছে না।
বিধায়কের অভিযোগ, জেলাশাসক এবং জেলা প্রশাসন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এবং কৃষকদের প্রাপ্য সার বাজারে বিক্রি করে মুনাফা লুঠছে। এই ঘটনা প্রশাসনিক স্তরে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং আধিকারিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আইএএস অ্যাসোসিয়েশন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে
মধ্যপ্রদেশ আইএএস অ্যাসোসিয়েশন একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে যে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং জেলাশাসকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। অ্যাসোসিয়েশন মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্য সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিধায়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানোর ঘোষণা করেছে।
অফিসারদের মতে, এই ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে প্রশাসনিক কাজে কোনও বাধা না আসে এবং সরকারি পরিষেবাগুলি সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে।
বিধায়ক কুশবাহের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা
বিজেপি বিধায়ক নরেন্দ্র সিং কুশবাহের নাম আগে থেকেই একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলায় জড়িত। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের হলফনামা অনুসারে, তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের রয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীকে কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া, অপহরণ, মারধর, দাঙ্গা উস্কে দেওয়া এবং এসসি-এসটি ধারার মতো একাধিক ধারায় মামলা দায়ের আছে। সরকারি কর্মচারীকে কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার মামলায় তিনি ছয় মাসের সাজাও পেয়েছেন, যা বর্তমানে আপিলে বিচারাধীন।
এই তথ্য প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে যে এই ধরনের ব্যক্তি কর্তৃক সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা আইন ও শৃঙ্খলার জন্য হুমকি স্বরূপ।