অধিবেশনের তারিখ ঘোষণা
আগামী সপ্তাহে বসতে চলেছে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন। ১, ২ এবং ৪ সেপ্টেম্বর টানা তিনদিন ধরে এই অধিবেশন চলবে। ৩ তারিখ করমপুজোর ছুটি থাকায় সেদিন বিধানসভা বন্ধ থাকবে। শোকপ্রস্তাব দিয়ে ১ সেপ্টেম্বর অধিবেশন শুরু হলেও মূলত ২ ও ৪ তারিখে হবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
‘বাঙালি হেনস্থা’ ইস্যুতে নিন্দা প্রস্তাব
সূত্রের খবর, এই অধিবেশনের সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে ‘বাঙালি হেনস্থা’। ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক বা বাঙালি যুবকদের নানা সময়ে হেনস্থার ঘটনা সামনে এসেছে। বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ বলে কটূক্তি বা এমনকি জেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ইস্যু নিয়েই নিন্দা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।
মমতার অবস্থান স্পষ্ট
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “বাঙালিদের অপমান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” ফলে এই নিন্দা প্রস্তাব যে রাজনৈতিকভাবে বড় বার্তা বহন করবে, তা স্পষ্ট। পুজোর আগে এই অধিবেশনকে ঘিরে তাই বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
শ্রমশ্রী প্রকল্পে সহায়তা
‘বাঙালি হেনস্থা’ প্রসঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগকেও তুলে ধরা হবে। সম্প্রতি রাজ্য চালু করেছে ‘শ্রমশ্রী প্রকল্প’, যেখানে ভিনরাজ্য থেকে বাংলায় ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের এক বছরের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্প বাঙালি শ্রমিকদের পাশে থাকার অঙ্গীকারকেই স্পষ্ট করছে।
SIR-এর প্রতিবাদ বিধানসভায়ও
শুধু ‘বাঙালি হেনস্থা’ নয়, পাশাপাশি আলোচনায় আসবে SIR ইস্যুও। দিল্লিতে যেমন তৃণমূল এই ইস্যুতে আন্দোলন চালাচ্ছে, তেমনই এবার বিধানসভায়ও তার প্রতিফলন দেখা যাবে। বিশেষ অধিবেশনে SIR-এর বিরুদ্ধে সরব হতে চলেছেন শাসক দলের বিধায়করা। বিরোধী বিজেপির পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা প্রবল।
অপরাজিতা বিল ফের আলোচনায়
এছাড়াও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে অপরাজিতা বিল। নারীর উপর অত্যাচার রুখতে আরজি কর কাণ্ডের পর এই বিল পাশ করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু রাজ্যপাল সেই বিল ফেরত পাঠান। এবার বিশেষ অধিবেশনে ফের সেই বিল নিয়ে তর্ক-বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যপাল ও সরকারের টানাপোড়েনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভিনরাজ্যে বাঙালিদের দুর্দশা
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর ভারতসহ বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নানারকম নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এসেছে। কেউ বাংলায় কথা বললে তাকে বাংলাদেশি বলে কটাক্ষ, জেলে পুরে দেওয়া এমনকি পুশব্যাকের ঘটনাও ঘটেছে। এই সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার অধিবেশনে নিন্দা প্রস্তাব আনছে।
রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভায় এই বিশেষ অধিবেশন শুধুমাত্র আইনগত আলোচনার জায়গা নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশলের অংশও বটে। পুজোর আগে বাংলার আবেগঘন ইস্যু তুলে ধরে তৃণমূল জনমতকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। একইসঙ্গে বিজেপিকে চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করবে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বিরোধীদের ভূমিকা
এই আলোচনায় বিরোধী দল বিজেপি কী অবস্থান নেয়, সেদিকেও নজর থাকবে। ‘বাঙালি হেনস্থা’ প্রসঙ্গে বিজেপির কিছু নেতাও অতীতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে অধিবেশনে তাঁরা সরাসরি সরকারের পক্ষে নাকি বিপক্ষে থাকবেন, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে জল্পনা। অপরাজিতা বিল ও SIR প্রসঙ্গে অবশ্য শাসক-বিরোধী মুখোমুখি সংঘাত অনিবার্য।
পুজোর আগে কড়া বার্তা
সব মিলিয়ে, পুজোর আগেই রাজ্য সরকার বিধানসভা থেকে কড়া বার্তা দিতে চাইছে। বাঙালির অপমান মেনে নেওয়া হবে না, শ্রমিকদের পাশে সরকার দাঁড়াবে এবং SIR ও অপরাজিতা বিলের মতো ইস্যুতেও শাসক দল তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। এই তিনদিনের বিশেষ অধিবেশন তাই শুধু আইনসভার আনুষ্ঠানিকতা নয়, রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ারও বড় মঞ্চ হতে চলেছে।