ঘুম থেকে উঠেই ঘাড়–কাঁধে ব্যথা বদলান অভ্যাস মিলতে পারে টানা আরাম

ঘুম থেকে উঠেই ঘাড়–কাঁধে ব্যথা বদলান অভ্যাস মিলতে পারে টানা আরাম

ঘুম ভাঙতেই শরীরে টান

প্রতিদিনের মতো ঘুম থেকে ওঠার পরও স্বস্তি না পেয়ে উল্টে ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা বাড়ছে অনেকেরই। দিনের পর দিন কম্পিউটার বা মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ ঝুঁকে কাজ করলে এই ব্যথা লেগেই থাকে। সাধারণ ধারণা বয়স বাড়ার জন্য এই যন্ত্রণা দেখা দেয়, কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন—এর পিছনে মূলত দায়ী শোয়ার ভঙ্গি, বালিশ কিংবা ম্যাট্রেস। সঙ্গে যদি অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম আর মানসিক চাপ যুক্ত হয়, তবে ফল হতে পারে ভয়াবহ।

গবেষণার নতুন ফলাফল

‘জার্নাল অফ টার্কিশ স্লিপ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা জানাচ্ছে, শোয়ার ভঙ্গির সঙ্গে সরাসরি ঘাড় বা কাঁধের ব্যথার সম্পর্ক নেই। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, নিয়ম মেনে স্লিপ হাইজিন না মানলে শরীরের মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধি সমস্যায় ভুগতে হয়। অর্থাৎ, ঘুমের পরিবেশ, ম্যাট্রেস–বালিশের মান এবং শোয়ার অভ্যাসের খেয়াল না রাখলেই ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

বালিশ বদলানো জরুরি

বালিশ শুধু ঘুমের আরাম নয়, শরীরের অ্যালাইনমেন্টও নিয়ন্ত্রণ করে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রত্যেকের শরীরের গঠন আলাদা—তাই সঠিক বালিশ বেছে নেওয়াও জরুরি। খুব উঁচু বা খুব নিচু বালিশ ব্যবহার করলে ঘাড় ও কাঁধে বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে সকালে উঠে ব্যথা বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, নিজের শোয়ার অভ্যাস অনুযায়ী উপযুক্ত বালিশ ব্যবহার করলে অনেকটাই আরাম মিলতে পারে।

উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস মারাত্মক

অনেকেরই পছন্দ উপুড় হয়ে শোয়া। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ভঙ্গি ঘাড়ের পেশিতে চাপ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে মাসল স্প্যাজ়ম, স্টিফনেস এমনকি জয়েন্ট পেইন তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস বজায় থাকলে মাথা ও ঘাড়ের ব্যথা একেবারে নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন—এটি পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি।

ভঙ্গি পরিবর্তন করুন

ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে নিরাপদ ভঙ্গি হলো চিৎ হয়ে শোয়া বা এক পাশে ঘুরে শোয়া। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই ভঙ্গি বজায় রাখা ঠিক নয়। অনেকসময় কোমরের কাছে বা দু’পায়ের মাঝখানে বালিশ রাখলে চাপ কমে এবং আরামদায়ক ঘুম হয়। এই ছোট ছোট পরিবর্তনই শরীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

ম্যাট্রেসের গুরুত্ব অপরিসীম

শুধু বালিশ নয়, ঘাড় ও কাঁধের ব্যথার পিছনে বড় ভূমিকা রয়েছে ম্যাট্রেসেরও। অত্যধিক নরম ও আরামদায়ক গদি প্রথমে স্বর্গীয় মনে হলেও, এতে মেরুদণ্ড ও ঘাড়ের সঠিক অ্যালাইনমেন্ট নষ্ট হয়। এর ফলে ব্যথা বাড়তে থাকে। তাই ম্যাট্রেস কেনার সময় কেবল নরম বা আরামদায়ক দেখলেই হবে না—শরীরের ভঙ্গি ও সাপোর্ট বজায় রাখে এমন ম্যাট্রেস বেছে নেওয়াই শ্রেয়।

স্লিপ হাইজিন মানা দরকার

চিকিৎসকদের মতে, শুধু বালিশ–ম্যাট্রেস নয়, ঘুমের সামগ্রিক অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের আলো, ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, মানসিক চাপ—সবই প্রভাব ফেলে ঘুমের মানের উপর। নিয়ম মেনে ঘুমের পরিবেশ তৈরি করতে পারলে শরীর স্বস্তি পায় এবং ঘাড়–কাঁধের ব্যথাও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ব্যথা কমানোর সহজ উপায়

চিকিৎসকরা বলছেন, ছোটখাটো পরিবর্তনেই অনেকটা উপকার পাওয়া সম্ভব। সঠিক ভঙ্গিতে শোয়া, সময়মতো ম্যাট্রেস ও বালিশ বদলানো, ঘুমের আগে স্ট্রেস কমানো এবং শরীরচর্চার অভ্যাস তৈরি করলেই ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। পাশাপাশি প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপি বা হালকা ব্যায়ামও কাজে আসে।

সারকথা

ঘাড় ও কাঁধের ব্যথাকে অবহেলা করলে তা দীর্ঘমেয়াদে বড় অসুখের রূপ নিতে পারে। তাই ব্যথা হলে শুধু ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে চুপ না থেকে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন—ঘুমের অভ্যাস বদলালে এবং স্লিপ হাইজিন মানলে এই যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

 

Leave a comment