বাংলায় মোদী সফর চূড়ান্ত, লক্ষ্যে ২১ জুলাইয়ের ঠিক আগেই বড় সভা

বাংলায় মোদী সফর চূড়ান্ত, লক্ষ্যে ২১ জুলাইয়ের ঠিক আগেই বড় সভা
সর্বশেষ আপডেট: 30-11--0001

১৮ জুলাই মোদী সভা করতে পারেন দমদম নয়, দুর্গাপুরেই! চূড়ান্ত প্রস্তুতি রাজ্য বিজেপির।ফের বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঠিক শহীদ দিবসের তিনদিন আগে, ১৮ জুলাই, সম্ভাব্য জনসভা হতে চলেছে দুর্গাপুরে। যদিও দমদমকেও বিকল্প ভাবা হয়েছিল, শেষমেশ প্রায় নিশ্চিত হয়েছে নেহরু স্টেডিয়াম, দুর্গাপুরই হচ্ছে সভাস্থল। রাজ্য বিজেপি সূত্র এমনটাই জানিয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) চূড়ান্ত কিছু না জানালেও প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই তুঙ্গে।

নেহরু স্টেডিয়ামে ফের মোদী, ২০১৯-এর স্মৃতি ফিরছে কি?

স্টিল প্ল্যান্টের মাঠে প্রাথমিক হেলিপ্যাড, তারপর গাড়িতে সভাস্থলে যাবেন মোদী।বিহার সফর সেরে মোদীর বিমানের অন্ডাল বিমানবন্দরে অবতরণের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে সরাসরি পৌঁছবেন অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট সংলগ্ন মাঠে। এরপর গাড়িতে যাবেন মাত্র ২০০ মিটার দূরের নেহরু স্টেডিয়ামে, যেখানে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের সময়ও তিনি সভা করেছিলেন। এবারও সেখানে জনজোয়ারের আশা রাজ্য বিজেপির।

শহীদ দিবসের ঠিক আগে, মোদীর বার্তা কী হবে?

তৃণমূলের ধর্মতলা সভার আগে বঙ্গবাসীর উদ্দেশে মোদীর কোনও বার্তা কি ঘুরিয়ে দেবে হাওয়া?২১ জুলাই শহীদ দিবস। ধর্মতলায় জমায়েত করবে তৃণমূল। উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার তিনদিন আগে রাজ্যে সভা করছেন মোদী—নিশ্চয়ই কাকতালীয় নয়, বলছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির বক্তব্য, শহীদ দিবসের ‘বিকল্প বার্তা’ দিতে চান মোদী। প্রশ্ন উঠছে, প্রধানমন্ত্রীর মুখে এবার কোন ইস্যু আসবে?

মেদিনীপুর-মুর্শিদাবাদ, আবারও কি অশান্তি তোলা হবে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে?

আগের সভায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন তৃণমূলের ‘নৈরাজ্য’ ও ‘দুর্নীতি’ নিয়ে। এবারও কি একই রণনীতি?

শেষবার মে মাসে আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে মোদী সরাসরি আক্রমণ করেন তৃণমূলকে। বলেন, মেদিনীপুরে মানুষ বঞ্চিত, মুর্শিদাবাদে আইনের শাসন নেই। এবার সভা দুর্গাপুরে। রাজ্যের শিল্পাঞ্চলে দাঁড়িয়ে উন্নয়ন বনাম বিশৃঙ্খলা—এই দ্বৈরথেই রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারেন তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে মঞ্চ গড়ছে বিজেপি

২০২৬ সালের ভোটের আগে বঙ্গবাসীর মন জয় করতে তৎপর মোদী বাহিনী।বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। সেই লক্ষ্যেই আরও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার দিকে ঝুঁকছে রাজ্য বিজেপি। মোদীর এই সভা সেই প্রচারাভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এক বিজেপি নেতা বলেন, মোদীর সভার পরেই শুরু হবে বুথভিত্তিক স্নায়ুযুদ্ধ।

বিজেপির নিজস্ব ছকে স্ট্র্যাটেজি, তৃণমূল দেখছে পাল্টা বার্তার সুযোগ

সভা-সফরের সময় বাছাইও কৌশলের অংশ বলেই জোর গুঞ্জন।তৃণমূলের দাবি, ২১ জুলাইয়ের গন্ধেই ভয় পাচ্ছে বিজেপি, তাই এর আগে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীকে নামানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির মতে, আসলে বাংলার মানুষ উন্নয়নের সঙ্গে চাইছে শান্তি, সেটাই বোঝাতে আসছেন মোদী। স্পষ্ট, এই জনসভা ঘিরেই শুরু হয়েছে শব্দযুদ্ধ ও স্ট্র্যাটেজি লড়াই।

মোদী বনাম মমতা—কে এগিয়ে থাকবেন মঞ্চে ও মনে?

২১ জুলাইয়ের আগে রাজনীতির ঢেউ চড়া, মোদীর বার্তা কি দিক বদলাবে?এই জনসভা কি শুধুই প্রচার, নাকি রাজনৈতিক মোড় ঘোরানোর ছক? তা সময় বলবে। তবে ১৮ জুলাই দুর্গাপুরের সভা নিয়ে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ ইতিমধ্যেই বাড়ছে। বাংলার মাটিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তা এবার কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই নজর আপামর রাজনীতি-সচেতন মানুষের।

উন্নয়নের শ্লোগানে চাপা পড়ছে জীবনের হাঁক?

স্টেশন আধুনিক হবে, কিন্তু তার বিনিময়ে পথে বসা শতাধিক পরিবার—এটাই কি কাঙ্ক্ষিত?একদিকে আধুনিকীকরণ, উন্নয়নের জোয়ার। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের রুটি-রুজির অবলম্বন হারানো অসংখ্য মুখ। রাতারাতি ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া স্বপ্নগাঁথা এখন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে একটাই প্রশ্ন রেখে—উন্নয়ন কি সব কিছু ভেঙে গড়ারই নাম?

Leave a comment