বর্ষাকালে সর্দি-কাশি এবং ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের লক্ষণগুলি বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ, যা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সাধারণ সর্দিতে নাক দিয়ে জল পড়া, কাশি, গলা ব্যথা থাকে, অন্যদিকে ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়ায় তীব্র জ্বর, শরীর ও গাঁটে ব্যথা এবং ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা যায়।
সর্দি ও ডেঙ্গুর লক্ষণ: বর্ষার মরশুম আরাম দিলেও, এটি রোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে। এই দিনগুলিতে দিল্লি সহ বিভিন্ন জায়গায় মানুষের মধ্যে জ্বর, কাশি এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে। সমস্যা তখনই হয় যখন এই লক্ষণগুলি সর্দির মতো দেখায় এবং মানুষ বুঝতে পারে না যে এটি সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ নাকি ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো গুরুতর মশাবাহিত রোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে সময় এবং লক্ষণের ধরণ দেখে এই রোগগুলির মধ্যে পার্থক্য করা যেতে পারে।
সাধারণ সর্দি-কাশির লক্ষণ
সাধারণ সর্দিকে মেডিকেল ভাষায় কমন কোল্ড বলা হয়। এর লক্ষণগুলি বেশিরভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত। নাক দিয়ে জল পড়া বা বন্ধ হওয়া, একটানা হাঁচি, গলা ব্যথা এবং কাশি এর সবচেয়ে বড় লক্ষণ। অনেক সময় হালকা মাথাব্যথা এবং হালকা শরীর ব্যথাও অনুভূত হতে পারে। কিছু রোগীর হালকা জ্বরও হয়। এই লক্ষণগুলি দুই থেকে তিন দিনে বেড়ে যায় এবং সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যে কমতে শুরু করে। সর্দি-কাশির সময় ত্বকে কোনো ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা যায় না।
সাধারণ মশার কামড়ের প্রভাব
বর্ষাকালে মশার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সাধারণ মশার কামড়ে ত্বকে ছোট লাল ফোলা দেখা যায়। চুলকানির সমস্যাও হয়। কিছু মানুষের ত্বকে হালকা ফোলা বা ফোসকার মতো ফুসকুড়ি হতে পারে। এটি একটি সাধারণ প্রতিক্রিয়া এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়। সাধারণ মশার কামড়ে তীব্র জ্বর বা সারা শরীরে ব্যথা হয় না।
মশার কামড়ের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে, কয়েকদিন পর গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং ম্যালেরিয়া বর্ষাকালে সবচেয়ে সাধারণ মশাবাহিত রোগ। এর মধ্যে হঠাৎ তীব্র জ্বর আসা, সারা শরীরে ব্যথা এবং গাঁটে ব্যথা অন্তর্ভুক্ত। ডেঙ্গুর লক্ষণগুলির মধ্যে মাথাব্যথার সাথে চোখের পেছনে তীব্র ব্যথা অনুভব করা। কিছু ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব এবং বমিও হতে পারে। অনেক রোগীর ত্বকে ফুসকুড়ি বা লাল র্যাশ দেখা দেয়।
কেন বিভ্রান্তি হয়
সর্দি-কাশি এবং ডেঙ্গুর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি জ্বর এবং শরীর ব্যথার কারণে হয়। উভয় অবস্থাতেই রোগীরা তীব্র জ্বর এবং দুর্বলতা অনুভব করতে পারে। এছাড়াও, ভাইরাল সংক্রমণ এবং ডেঙ্গুতে ত্বকে র্যাশও দেখা যেতে পারে। অনেক সময় লিম্ফ নোডে ফোলা দেখা দেয় যা উভয় রোগেই দেখা যেতে পারে। এই কারণেই রোগীরা বুঝতে পারে না যে তাদের সাধারণ সর্দি হয়েছে নাকি কোনো মশাবাহিত রোগ।
সময়ে মনোযোগ দিন
রোগের লক্ষণের শুরু হওয়ার সময় রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে। মশার কামড়ের কয়েক মিনিট বা ঘন্টার মধ্যেই চুলকানি এবং লাল ফোলা দেখা যায়। কিন্তু ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো সংক্রমণে লক্ষণগুলি কয়েক দিন পর শুরু হয়। যদি মশার কামড়ের সাথে সাথেই জ্বর আসে, তবে এটি সাধারণত অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া বা সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ হয়।
লক্ষণের স্থান থেকে সনাক্তকরণ
নাক দিয়ে জল পড়া, হাঁচি এবং গলা ব্যথা সর্দি-কাশির লক্ষণ। এর বিপরীতে, যদি ত্বকে চুলকানিযুক্ত লাল ফুসকুড়ি থাকে তবে এটি মশার কামড়ের প্রভাব বলে মনে করা হয়। তীব্র জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা এবং সারা শরীরের পেশী ব্যথা ডেঙ্গুর লক্ষণ বলে বিবেচিত হয়।
লক্ষণের ধরণ বুঝুন
যদি জ্বরের সাথে শরীরে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে, তবে এটি ডেঙ্গু বা কোনো গুরুতর ভাইরাল সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। একটানা তীব্র জ্বর, বারবার বমি, মাড়ি বা নাক থেকে রক্ত পড়া এবং পেটে তীব্র ব্যথা গুরুতর ডেঙ্গুর ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
সাধারণ মশার কামড় সাধারণত ত্বকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কমন কোল্ড শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত এবং এতে নাক ও গলার সমস্যা বেশি হয়। অন্যদিকে, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগ মশার কামড়ের কয়েক দিন পর দেখা দেয় এবং এতে জ্বরের সাথে সারা শরীরকে প্রভাবিত করার মতো লক্ষণ দেখা যায়। এই পার্থক্যটি চিহ্নিত করে মানুষ তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।