মার্কিন সিনেটর গ্রাহাম ভারত, চীন এবং ব্রাজিলের বিরুদ্ধে রাশিয়াকে তেল দিয়ে যুদ্ধে সহায়তা এবং নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য দায়ী করার অভিযোগ করেছেন।
আমেরিকা: মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ভারতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে তাদের যুদ্ধযন্ত্রকে শক্তিশালী করছে এবং এর ফলে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকরা মারা যাচ্ছে। তার মতে, চীন এবং ব্রাজিলও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এবং এই দেশগুলিকেও এর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
গ্রাহাম এক্স (X)-এ পোস্ট করে লিখেছেন যে ভারত, চীন, ব্রাজিল এবং অন্যান্য দেশ পরোক্ষভাবে ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য দায়ী। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে এই দেশগুলি কি বুঝতে পারছে না যে তাদের কেনাকাটার কারণে নিরীহ বেসামরিক মানুষের জীবন যাচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন যে "ভারত পুতিনের সমর্থনের মূল্য দিচ্ছে এবং অন্যদেরও শীঘ্রই এটি বুঝতে হবে।"
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগুন আবার বাড়ছে
রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি ক্রমাগত গুরুতর হচ্ছে। রাশিয়া সম্প্রতি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪৮ জন আহত হয়েছে। এই হামলা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে সবচেয়ে বড় হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।
কিয়েভের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে হামলা হয়, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক কার্যালয়ের ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার জানালা ভেঙে গেছে এবং প্রায় ১০০টি ভবন ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে একটি শপিং মলও ছিল।
মার্কিন উদ্বেগ: রাশিয়াকে সমর্থনকারী নীতি
আমেরিকা ক্রমাগত ভারতের বিরুদ্ধে রাশিয়াকে পরোক্ষভাবে যুদ্ধের জন্য অর্থায়ন করার অভিযোগ করছে। আমেরিকার অভিযোগ হল যে ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনে এবং রাশিয়া সেই অর্থ অস্ত্র তৈরি এবং ইউক্রেনীয় নাগরিকদের হত্যার জন্য ব্যবহার করে। এই অভিযোগের কারণে আমেরিকা ভারতের উপর ৫০% শুল্কও আরোপ করেছে। যদিও ভারত অনেকবার এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং অভিযোগ খারিজ করেছে।
গ্রাহামের সতর্কতা: পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে
গ্রাহাম স্পষ্ট করেছেন যে ভারত, চীন এবং ব্রাজিলের মতো দেশগুলি রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে সমর্থন করছে। তিনি বলেছেন যে এই সমর্থন নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে এবং এমন দেশগুলিকে এর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি আরও লিখেছেন যে এটি একটি গুরুতর বিষয় এবং এই দেশগুলিকে তাদের নীতিগুলি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে চিন্তা করা উচিত।
কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা
বৃহস্পতিবার সকালে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে হামলা চালিয়েছে। এতে রাশিয়া ৫৯৮টি ড্রোন এবং ৩১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন কিয়েভের কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
কিয়েভের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে ১০টি জেলায় ৩৩টি স্থান সরাসরি হামলা বা ধ্বংসাবশেষের কবলে পড়েছে। এই হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকে আহত হয়েছেন। এই হামলা ছিল ২০২২ সালের যুদ্ধের পর রাশিয়ার কিয়েভের কেন্দ্রে সরাসরি হামলার কয়েকটি ঘটনার মধ্যে একটি।
কোথায় কোথায় হামলা প্রভাবিত হয়েছে
এই হামলায় অনেক ভবন ধ্বংস হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যালয়, স্কুল, সরকারি ভবন এবং শপিং মল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার জানালা ভেঙে গেছে এবং রাজধানী শহরের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে। কিয়েভের বিমান বাহিনী বলেছে যে এই হামলা শহরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি গুরুতর।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া
রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আমেরিকা বিশেষভাবে সেই দেশগুলিকে সতর্ক করেছে যারা রাশিয়া থেকে তেল কিনে যুদ্ধকে সমর্থন করছে। এছাড়াও, ইউরোপীয় দেশগুলিও রাশিয়ার হামলার নিন্দা করেছে। গ্রাহামের মতে, যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু এবং রাশিয়ার প্রাপ্ত সমর্থন, এই দেশগুলির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভারতের অবস্থান
ভারত বারবার তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সরকার বলেছে যে তেল কেনার প্রক্রিয়া বৈধ এবং এটি সরাসরি যুদ্ধে ব্যবহার করা হয় না। ভারত আমেরিকার অভিযোগ খারিজ করেছে এবং তার অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। তবে, আমেরিকা বলছে যে রাশিয়ার প্রাপ্ত অর্থের প্রভাব যুদ্ধে দেখা যাচ্ছে এবং এর জন্য ভারত দায়ী।
চীন এবং ব্রাজিলকে সতর্কতা
গ্রাহাম চীন এবং ব্রাজিলকেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন যে যদি এই দেশগুলি রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে সমর্থন করা অব্যাহত রাখে, তবে তাদেরও পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। তিনি লিখেছেন যে এটি কেবল ভারতের জন্য নয়, অনেক দেশের জন্য একটি গুরুতর বার্তা।