প্রধানমন্ত্রী মোদী জাপান সফরে ১৫তম ভারত-জাপান শিখর সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। তাঁকে ঐতিহ্যবাহী দারুমা পুতুল উপহার হিসেবে দেওয়া হয়, যা সাফল্য এবং ইচ্ছা পূরণের প্রতীক। এই পুতুল জাপানি সংস্কৃতিতে ধৈর্য ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার বার্তা দেয়।
PM Modi in Japan: জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে জাপানি ঐতিহ্য অনুসারে দারুমা পুতুল উপহার দেওয়া হয়। এই পুতুলটি গোলাকার এবং লাল রঙের হয়। পুতুলটির কেবল মুখ থাকে, কিন্তু হাত ও পা থাকে না। জাপানে এটিকে ইচ্ছা পূরণ এবং সাফল্যের প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়।
দারুমা পুতুল গ্রহণ করা সম্মান এবং শুভকামনার প্রতীক। এর অর্থ হল প্রধানমন্ত্রী মোদীর জন্য এই উপহারটি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার বার্তা নিয়ে এসেছে।
দারুমা পুতুলের গুরুত্ব
জাপানে দারুমা পুতুল প্রধানত লক্ষ্য পূরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। যখন একজন ব্যক্তি কোনো লক্ষ্য স্থির করে, তখন সে পুতুলের একটি চোখ রং করে। লক্ষ্য পূরণ হওয়ার সাথে সাথে দ্বিতীয় চোখটিও রং করে দেওয়া হয়।
এই প্রক্রিয়ার অর্থ হল ব্যক্তি তার লক্ষ্যের উপর সম্পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করে এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালায়। দারুমা পুতুল এই বার্তা বহন করে যে, কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা সাফল্যের চাবিকাঠি।
ঐতিহাসিক পটভূমি এবং সংস্কৃতি
দারুমা পুতুলের সম্পর্ক খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর সন্ন্যাসী বোধিধর্মের সাথে। তিনি জেন বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠা করেন। কথিত আছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে ধ্যান করার সময় তিনি তাঁর হাত ও পা হারিয়েছিলেন। এই কারণেই পুতুলটির হাত ও পা থাকে না।
জাপানে প্রায় প্রতিটি বাড়ি, মন্দির এবং দোকানে দারুমা পুতুল রাখা হয়। এটিকে সৌভাগ্য, মানসিক শক্তি এবং ইতিবাচক শক্তির প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়। পুতুলটির লাল রং বিশেষভাবে জনপ্রিয়, কারণ বোধিধর্ম প্রায়শই লাল বস্ত্র পরিধান করতেন।
দারুমা পুতুলের নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, এটিকে ফেলে দিলেও এটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এর প্রতীকী অর্থ হল, ব্যক্তি যতবারই ব্যর্থ হোক না কেন, সে বারবার উঠে দাঁড়িয়ে তার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
জাপানি সংস্কৃতিতে দারুমা পুতুলের গুরুত্ব
দারুমা পুতুল জাপানি সংস্কৃতিতে সাফল্য, সমস্যার উপর বিজয় এবং দুর্ভাগ্য থেকে উত্তরণের প্রতীক। জাপানে একটি প্রবাদ আছে যে, যতবারই ব্যর্থতা আসুক না কেন, বারবার উঠে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এই একই বার্তা দারুমা পুতুলের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
জাপানিরা এটিকে বাড়ি, কার্যালয় এবং মন্দিরে রাখে। এটিকে শুভকামনার জন্য কেনা হয় এবং এটি যে কোনো ব্যক্তির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং দারুমা পুতুলের বার্তা
প্রধানমন্ত্রী মোদীকে দারুমা পুতুল উপহার দেওয়া কেবল সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নয়। এটি ভারত এবং জাপানের মধ্যে সাফল্য, ধৈর্য এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনার বার্তাও বহন করে। মোদী এটি গ্রহণ করে বলেন যে, এই পুতুলটি তাঁকে ব্যক্তিগত এবং জাতীয় লক্ষ্যগুলির উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে অনুপ্রাণিত করবে। এই উপহারটি দুই দেশের বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতাকে আরও জোরদার করে।
দারুমা পুতুলের সঙ্গে সম্পর্কিত বিশ্বাস
দারুমা পুতুল কাগজ এবং আঠা দিয়ে তৈরি করা হয়। এই পুতুলটি ফাঁপা এবং নীচের দিকে ভারী হয়। এটিকে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং মানসিক শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। জাপানে এটি শেখানোর জন্যও রাখা হয় যে, জীবনে সমস্যা এবং ব্যর্থতা আসবেই, কিন্তু ব্যক্তিকে বারবার উঠে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পুতুলটির লাল রং উদ্দীপনা, শক্তি এবং ক্ষমতার প্রতীক।