হাড়ের অপারেশনের পর আর্দ্র আবহাওয়া সুস্থ হয়ে ওঠাকে কঠিন করে তুলতে পারে, কারণ এতে সংক্রমণের এবং জড়তার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্ষেত্রে ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা, হালকা ব্যায়াম করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে দ্রুত ও নিরাপদে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।
অপারেশন পরবর্তী সুস্থতার টিপস: দিল্লির সিকে বিড়লা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের ডিরেক্টর ডঃ অশ্বিনী মাইচন্দ জানিয়েছেন, আর্দ্র আবহাওয়া হাড়ের অপারেশনের পর রোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠাকে আরও কঠিন করে তোলে। এই আবহাওয়ায় ঘাম শুকাতে দেরি হয়, যার ফলে ক্ষতস্থানের আশেপাশে সংক্রমণ এবং ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়াও, রোগীরা জয়েন্টগুলোতে বেশি জড়তা এবং ব্যথা অনুভব করেন। এই পরিস্থিতিতে, সময়মতো ড্রেসিং পরিবর্তন করা, সঠিক খাদ্য গ্রহণ, হালকা ব্যায়াম এবং ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে সুস্থ হয়ে ওঠার দিকে মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কেন আর্দ্র আবহাওয়া কঠিন?
অর্থোপেডিক সার্জনরা জানাচ্ছেন যে আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীরের ঘাম সহজে শুকায় না। এর ফলে ত্বক দীর্ঘ সময় ধরে ভেজা থাকে। হাড়ের অপারেশনের পর যদি ক্ষতস্থানের আশেপাশে আর্দ্রতা জমে, তাহলে সেখানে সংক্রমণ, ছত্রাক সংক্রমণ এবং ত্বকে জ্বালা হওয়ার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। এই সময়ে অনেক রোগী জয়েন্টগুলোতে জড়তা এবং ফোলাভাবের অভিযোগও করেন। ডাক্তারদের মতে, আর্দ্রতার কারণে হাড় এবং পেশীগুলোতে শক্তভাব অনুভব করা স্বাভাবিক।
ক্ষতস্থান পরিষ্কার ও ড্রেসিং জরুরি
অপারেশনের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষতস্থানটিকে শুকনো ও পরিষ্কার রাখা। ক্ষতস্থান ভিজে গেলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে ড্রেসিং সময়মতো পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। ডাক্তাররা পরামর্শ দেন যে রোগীদের ঢিলেঢালা এবং সুতির পোশাক পরা উচিত, যাতে ঘাম সহজে শুকিয়ে যায় এবং বাতাস চলাচল করতে পারে। আর্দ্র আবহাওয়ায় যদি কোনো অংশে বেশি ঘাম হয়, তবে সেখান থেকে অবিলম্বে সরে যাওয়া উচিত।
হালকা ব্যায়াম সাহায্য করবে
হাড়ের অপারেশনের পর শরীরের নড়াচড়া বজায় রাখা খুব জরুরি। আর্দ্র আবহাওয়ায় জড়তা এবং ভারিভাব আরও বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে হালকা ব্যায়াম শরীরকে আরাম দেয় এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। এর ফলে পেশীগুলো ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয় এবং হাড়ও দ্রুত সেরে ওঠে। তবে, মনে রাখবেন, কোনও ধরনের ব্যায়াম ডাক্তার বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ ছাড়া করা উচিত নয়।
খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিতে হবে
সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় খাদ্যাভ্যাস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হাড়কে শক্তিশালী করার জন্য ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিন ডি গ্রহণ করা জরুরি। আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘামের সাথে শরীর থেকে ইলেক্ট্রোলাইটও বেরিয়ে যায়, যা পেশীর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা জরুরি। এছাড়াও, রোগীদের প্রতিদিন কিছুক্ষণ রোদে বসা উচিত, যাতে শরীর ভিটামিন ডি পেতে পারে।
সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায়
আর্দ্র আবহাওয়ায় ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এই কারণে অপারেশনের পর রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। এই সময়ে ডাক্তারের নির্দেশিত ওষুধ এবং ড্রেসিং শিডিউল সঠিকভাবে মেনে চলা জরুরি। যদি ক্ষতস্থানের আশেপাশে লালভাব, ফোলাভাব, অতিরিক্ত ব্যথা বা পুঁজ দেখা যায়, তবে দেরি না করে ডাক্তার দেখানো উচিত।
ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠা
অর্থোপেডিক সার্জনরা মনে করেন যে হাড়ের অপারেশনের পর সুস্থ হয়ে ওঠা রাতারাতি হয় না। এই প্রক্রিয়ার জন্য সময় লাগে এবং রোগীর ধৈর্য ধরতে হয়। বিশেষ করে আর্দ্র আবহাওয়ায় যত্নের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। যদি ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখা, ড্রেসিং, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা হয়, তবে সুস্থ হয়ে ওঠার পথ সহজ হতে পারে।