মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আদালতের কাছ থেকে আরও একটি ধাক্কা খেলেন। ট্যারিফকে অবৈধ ঘোষণা করার পর এবার আদালত তাঁর ফাস্ট-ট্র্যাক দেশত্যাগের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।
ওয়াশিংটন: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আবারও আদালতের কাছ থেকে একটি বড় ধাক্কা খেলেন। ওয়াশিংটন ডিসির জেলা আদালত তাঁর বিতর্কিত ফাস্ট-ট্র্যাক দেশত্যাগ নীতি (Fast Track Deportation Policy) কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে এটিকে অভিবাসীদের অধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। আদালত স্পষ্ট করে বলেছে যে কোনও যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষকে আটক করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবিক অধিকারের পরিপন্থী।
এই রায় এমন এক সময়ে এসেছে যখন মাত্র কয়েকদিন আগে ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক আরোপিত ট্যারিফকে (Tariffs) অবৈধ ঘোষণা করেছিল। এই ধারাবাহিক রায়গুলি ট্রাম্পের নীতি এবং তাদের আইনি বৈধতার উপর গভীর আঘাত হেনেছে।
কী ছিল বিষয়টি?
জেলা আদালতের বিচারক জিয়া কব (Jia Cobb) তাঁর রায়ে বলেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারি ২০২৫ থেকে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে একটি আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছিল। এর অধীনে, যে সকল ব্যক্তির মার্কিন নাগরিকত্বের (US Citizenship) কাগজপত্র নেই এবং যাঁরা কমপক্ষে দুই বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করছেন তার প্রমাণও নেই, তাঁদের যেকোনো স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছিল।
বিচারকের মতে, অতীতেও আমেরিকায় অভিবাসীদের চিহ্নিত করে তাদের দেশত্যাগের ব্যবস্থা করা হত, কিন্তু এবার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত এবং কঠোর করে দেওয়া হয়েছিল। আদালত মন্তব্য করেছে, "প্রতিটি পরিস্থিতিতে দেশত্যাগের উপর জোর দেওয়া উচিত নয়। প্রতিটি মানুষের ন্যায্য শুনানি এবং নিজেদের পক্ষে কথা বলার অধিকার থাকা উচিত।"
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এই রায়ে ট্রাম্প প্রশাসন হতবাক হয়ে গেছে এবং অবিলম্বে আদালতের কাছে স্থগিতাদেশের আবেদন করেছে। প্রশাসনের মতে, এই রায় মার্কিন নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হতে পারে। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে যে তারা এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট (US Supreme Court) পর্যন্ত নিয়ে যাবে। তবে, জেলা আদালত স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
আগেও ধাক্কা খেয়েছেন – ট্যারিফ অবৈধ
এটি প্রথম ঘটনা নয় যখন ট্রাম্পের নীতি আদালত বাতিল করেছে। সম্প্রতি আমেরিকার একটি ফেডারেল আদালত তাঁর আরোপিত ট্যারিফকে (Import Tariffs) অবৈধ ঘোষণা করেছিল। আদালত কেবল ট্যারিফ অপসারণের আদেশ দেয়নি, বরং ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার জন্য ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ও দিয়েছে।
এই রায় মার্কিন বাণিজ্য জগৎ এবং বিশ্ব বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। আমেরিকা এবং সারা বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলি (Human Rights Groups) এই রায়ের স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপটি লক্ষ লক্ষ অভিবাসীর জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে, যাদের শুনানির অভাব এবং আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই দেশ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছিল।